গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের কাছে বৈসারান উপত্যকায় পর্যটকদের ধর্ম জিজ্ঞেস করে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। সেই ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস পর এনআইএ জমা করল চার্জশিট। প্রাথমিক ভাবে এই জঙ্গি হামলার দায় স্বীকার করেছিল ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। যদিও পরে তারা তা অস্বীকার করে। এদিকে এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এনআইএ বেশ কয়েকজন স্থানীয়কে গ্রেফতার করেছিল। অপরদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের দাচিগাম জঙ্গলে অপারেশন মহাদেব চালিয়ে পহেলগাঁও হামলাকারী সুলেমান ওরফে হাসিম মুসা সহ ৩ জঙ্গিকে খতম করেছিল ভারতীয় সেনা। এই আবহে ১৫ ডিসেম্বর জম্মুর একটি এনআইএ আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে।
এদিকে ১৫৯৭ পাতার চার্জশিটে লস্কর-এ-তইবা এবং দ্য রেজিসট্যান্স ফ্রন্টকে অভিযুক্ত করেছে এনআইএ। চার্জশিটে বলা হয়েছে, এই দুই জঙ্গি সংগঠনই পহেলগাঁওতে হামলার ছক কষা, জঙ্গিদের সহায়তা করা এবং এই হামলা বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। এছাড়াও আরও একাধিক জঙ্গিকে চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাছাড়া নাম রয়েছে জঙ্গিদের মদত দেওয়া স্থানীয়দেরও। চার্জশিটে বলা হয়েছে, পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী লস্কর কমান্ডার সাজিদ জাট। তার সঙ্গী ছিল তিন পাকিস্তানি জঙ্গি সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির আকা জিবরান এবং হামজা আফগানি। এরা তিনজনই সেনার এনকাউন্টারে খতম হয়েছে।
এদিকে পহেলগাঁও হামলার তদন্ত চলাকালীন গত ২২ জুলাই দুই অভিযুক্ত পারভেজ আহমেদ এবং বসির আহমেদকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে চার্জশিটে। বশির এবং পারভেজ জঙ্গিদের থাকার ব্যবস্থা করেছিল ‘হিল পার্ক’ এলাকার এক বাড়িতে। হামলার আগের দিন, ২১ এপ্রিল রাতে সেখানেই ছিল ওই তিন জঙ্গি। এদিকে এই তদন্তে এখনও পর্যন্ত ১০০০ জনেরও বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনআইএ। তদন্তে সংগৃহীত নথি, ডিজিটাল প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা। এদিকে তদন্ত এখনও জারি আছে বলে জানিয়েছে এনআইএ।
