Pakistan-Afghanistan clash update।চুক্তি ভেঙে আফগানিস্তানে হামলা পাকের! মৃত ৩ ক্রিকেটার

Spread the love

সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভেঙে আফগানিস্তানে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে পাকিস্তান। তার জেরে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করল আফগানিস্তান। সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম গোপন রাখার শর্তে তালিবানের এক আধিকারিক বলেছেন যে ‘সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। আর পাক্তিকার তিনটি জায়গায় বোমা ফেলেছে। আফগানিস্তান পালটা জবাব দেবে।’ নাম গোপন রাখার শর্তে প্রদেশ হাসপাতালের এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে মৃতদের মধ্যে দুই শিশুও আছে। তাছাড়াও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের হামলায় তিন ক্রিকেটারের মৃত্যু হয়েছে। একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচে খেলার জন্য তাঁরা পাকিস্তান সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় গিয়েছিলেন। সেইসময় পাকিস্তানের হামলার মৃত্যু হয়েছে। তিন ক্রিকেটার-সহ পাকিস্তানের হামলায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন রশিদ খান। আর আফগান বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে যে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার কথা ছিল, তা থেকে নাম তুলে নিচ্ছে।

আফগান-পাক সংঘাত সামলানো সহজ ব্যাপার, মত ট্রাম্পের

তারইমধ্যে আফগানিস্তানে যে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে, তাতে তেমন পাত্তা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আবহেই তিনি বলেন, ‘যদিও আমি জানি যে (আফগানিস্তানে) হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের উরে হামলা চলছে…..তবে আমায় এটার সমাধান করতে হয়, তাহলে এটা আমার কাছে একদম সহজ ব্যাপার হবে।’

ইতিহাস ভুলে গিয়েছে পাকিস্তান?

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পাকিস্তানের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে যে তারা শান্তি চায় না। এছাড়াও, আফগানিস্তানের বিজয়ী ইতিহাস এবং সংগ্রামের বিষয়েও তাদের কোনও ধারণা নেই। আফগানিস্তান এমন একটি দেশ যেখান থেকে বিশ্বের সমস্ত শক্তিধর দেশ পরাজিত হয়ে ফিরে গিয়েছে। আফগানিস্তান যখন বিভিন্ন উপজাতিতে বিভক্ত ছিল, তখনও পরাশক্তিরা ভয় পেত।

সোভিয়েত থেকে আমেরিকা – আফগানিস্তানে কী হয়েছিল?

একাংশের বক্তব্য, আফগানিস্তানের মাটিতে অনেক দেশের পতাকা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। একারণেই আফগানিস্তানকে ‘সাম্রাজ্যের কবরস্থান’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুধুমাত্র বিংশ শতাব্দীর কথা বললে ১৯১৯ সালে ব্রিটিশরা আফগানিস্তান ছেড়ে দিয়েছিল। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান আক্রমণ করেছিল। কিন্তু তারা ১০ বছরেও যুদ্ধ জিততে পারেনি। তারপর থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের শক্তি কমতে শুরু করেছিল। ভেঙে গিয়েছিল।

২০০১ সালে আমেরিকার নেতৃত্বে আফগানিস্তানে হামলা হয়েছিল। এই যুদ্ধ বছরের পর বছর ধরে চলেছিল। লাখ-লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর সেনাবাহিনীকে ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নেয় তালিবনান। আফগানিস্তানের ইতিহাস এমনই। এখানে আসা সেনাবাহিনীরা প্রথমে সফল হচ্ছে বলে মনে করলেও শেষপর্যন্ত তাদের বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে এখান থেকে চলে যেতে হয়েছে বলে মত ওই মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *