Pakistan Asim Munir Latest Update। পাকিস্তানের সিংহাসনে বসানো হল মুনিরকে

Spread the love

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী তিন বাহিনীর মধ্যে আরও ভাল সমন্বয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মাসে পাকিস্তানে এই পদটি তৈরি করা হয়েছিল। সেই নতুন পদে বসলেন আসিম মুনির। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুনিরকে সেনাপ্রধান এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগের অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির কাছে, যা রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, পাঁচ বছরের জন্য এই নিয়োগ দেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবরের মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়ানো হয়েছে। ভারতের অপারেশন সিঁদুরের পর আসিম মুনির পাকিস্তানে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিলেন যে, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ তাঁকে ফিল্ড মার্শাল করেছিলেন। এরপর থেকে আসিম মুনির পাকিস্তানের অনানুষ্ঠানিক ‘বাদশাহ’ হয়ে উঠেছেন। এখন পাকিস্তানে তাঁর সীমাহীন ক্ষমতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে মুনিরকে সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে তাঁর মেয়াদ পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। তাঁর নিয়োগ ২৭ নভেম্বর থেকে মুলতুবি ছিল। মাত্র কয়েক মাস আগে পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় ফিল্ড মার্শাল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় মুনিরকে। আর এবার তিনি ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্স পদে বসলেন।

গত মাসে সংসদে পাস হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, মুনির আজীবন ইউনিফর্মে থাকবেন এবং গ্রেফতারি থেকে পূর্ণ রক্ষাকবচ পাবেন তিনি। কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল এই বিধানের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলছেন, এ ধরনের ব্যাপক অধিকার ও সুরক্ষা দেওয়া গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়। পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর প্রভাব ঐতিহাসিকভাবে খুবই শক্তিশালী। দেশের ইতিহাসের প্রায় অর্ধেক সময় ধরে সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতায় থেকেছে। এমতাবস্থায় প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান হিসেবে এ ধরনের পদ প্রতিষ্ঠাকে দেশের রাজনৈতিক-সামরিক কাঠামোর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সামরিক নীতি, আঞ্চলিক কৌশল এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোতে মুনিরের নতুন ভূমিকা কী প্রভাব ফেলবে তা আগামী মাসগুলিতে স্পষ্ট হবে। তবে এটা নিশ্চিত যে, সিডিএফের এই নতুন পদ এবং মুনিরের বর্ধিত ক্ষমতা পাকিস্তানের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *