মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে চিন ও পাকিস্তান। উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাজয় রাখতে এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের ওপর জোর দিয়েছে চিন। এই আবহে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে বৈঠক হয় সম্প্রতি। দুই নেতা উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। এরপরই পশ্চিম এশিয়া নিয়ে এই শান্তি প্রস্তাব পেশ করা হয়। এদিকে সম্প্রতি তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীদের সাথে ইসহাক দারের সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে ওয়াংকে অবহিত করেন।
চিন এবং পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চিন ও পাকিস্তান অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সব এলাকায় মানবিক সহায়তা দিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা সমুন্নত রাখতে হবে। দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য সংলাপ এবং কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর বিকল্প। সামরিক সংঘাতের সময় সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি অনুসরণ করতে হবে। সংঘাতের সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোকে অবিলম্বে অসামরিক পরিকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে আহ্বান জানাচ্ছে চিন ও পাকিস্তান। সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলা উচিত সব পক্ষের।’
এর আগে গত ২৯ মার্চ তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পাকিস্তানি বিদেশমন্ত্রী। যদিও সেই বৈঠক থেকে কোনও ইতিবাচক ফলাফল মেলেনি। এই বৈঠকের আগে মিশর, তুরস্ক এবং সৌদির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষীয় বৈঠকও করেন ইসহাক দার। বৈঠক শেষে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বিদেশমন্ত্রীরা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে এই অঞ্চলে যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এদিকে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে পাকিস্তান যে মধ্যস্থতার বার্তা দিয়েছিল, ইরান তা খারিজ করে দিয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, পাকিস্তানে বৈঠক করা দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে সুয়েজ খালের মতো ফি কাঠামোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তানি সূত্রের মতে, তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরব এই জলপথের মাধ্যমে তেলের প্রবাহ পরিচালনা করার জন্য একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করতে পারে। সেই কনসোর্টিয়ামে নাকি পাকিস্তানকে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ বলেছে যে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই কনসোর্টিয়ামে যোগ দেবে না।