Puri Rath Yatra Devotee Death: ওড়িশার পুরীতে ঐতিহাসিক রথযাত্রা উৎসবের মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। ভক্তদের প্রবল ভিড়ের চাপে দুই ভক্তের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভিড়ের মধ্যে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করা সাতজনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। পরে আরও এক ভক্তেরও মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শতাব্দী প্রাচীন এই রথযাত্রা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরীতে ভিড় জমান। প্রতিবছরের মতো এবারও শ্রীমন্দির থেকে ভগবান জগন্নাথ, দাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে সুসজ্জিত রথে করে গুন্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই দিনটিই বছরের একমাত্র সময়, যখন তিন দেবদেবী মন্দির থেকে বাইরে বের হন এবং সাধারণ ভক্তরা তাঁদের দর্শনের সুযোগ পান।
এবারের রথযাত্রায় প্রবল বৃষ্টিও ভক্তদের উৎসাহে ভাটা ফেলতে পারেনি। টানা বৃষ্টির মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ পুরীর গ্র্যান্ড রোডে নেমে রথ টানেন, কীর্তন করেন এবং উৎসবে অংশ নেন। বৃষ্টিতে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় জল জমলেও ভক্তদের ঢল অব্যাহত ছিল।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে পুরীতে মোট ২৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃহস্পতিবারও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। ভারী বৃষ্টির জেরে জল জমে যাওয়াকে প্রশাসনের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।
রথযাত্রার আগে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নিজে পুরীতে যান ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তিনি প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে ভক্তদের নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে জল জমে থাকা এলাকাগুলি দ্রুত পরিষ্কার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় পুরী জেলা প্রশাসন, পুরসভা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এবার নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। উৎসব উপলক্ষে মোতায়েন করা হয় ১৯ জন আইপিএস আধিকারিক এবং প্রায় ১৩ হাজার পুলিশ কর্মী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৫টি কোম্পানিও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। সিআরপিএফ, বিএসএফ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়।
প্রযুক্তির ব্যবহারেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্র্যান্ড রোড এবং সংলগ্ন এলাকায় ৪৭৩টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। দুটি অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে পুরো পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং ড্রোন-জ্যামিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।