রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এবার পড়শি রাজ্য ওড়িশায় এফআইআর হয়েছে। প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা গতকাল রাতেই তালসারি থানায় গিয়েছেন। সেখানে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, যীশু সেনগুপ্তরা। এর আগে রিজেন্ট পার্ক থানায় আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে একটি এফআইআর করা হয়েছিল লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। আর এবার বিজেপি শাসিত ওড়িশায় দায়ের করা হল দ্বিতীয় দফার এফআইআর।
রিপোর্ট অনুযায়ী, তালসারি থানায় বালেশ্বরের অ্যাডিশনাল এসপি দিব্যজ্যোতি দাসের সঙ্গে দেখা করেন প্রিয়াঙ্কা, প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, যীশু। রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে এসপি দিব্যজ্যোতি দাসের কাছে। এর আগে আর্টিস্ট ফোরাম নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
রাহুলের মৃত্যুর পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, অন্তত ঘণ্টাখানেক জলের তলায় ছিলেন রাহুল। দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় থাকার জেরে ফুসফুস এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ঢুকে যায় নোনা জল এবং প্রচুর বালি। ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায় রাহুলের। এই ঘটনায় আর্টিস্ট ফোরামের এক্সিকিউটিভ কমিটি বৈঠকে বসে। রাহুলের মৃত্যুর তদন্তের দাবিতে ডাকা হয়েছিল ওই বৈঠক। শুধু তাই নয়, অভিনেতার মৃত্যুতে চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণও। উল্লেখ্য, রাহুল যে ধারাবাহিকের জন্য তালসারি গিয়েছিলেন, সেটি ছিল স্টার জলসার অন্যতম ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার কারেগা’। এই ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীনই মৃত্যু হয় রাহুলের। সেই ঘটনার পরপরই ক্রুয়ের একেক জনের কথা একেক রকম ছিল। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ‘গভীর জলে’ শ্যুটিংয়ের কোনও কাহিনী স্ক্রিপ্টে ছিল না। আবার স্থানীয়রা দাবি করেন, হয়ত চোরাবালিতে পড়ে মৃত্যু হয় রাহুলের। এই সবের মাঝে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সংস্থা দায় এড়াতে চাইছে বলে অভিযোগ করছেন আর্টিস্ট ফোরাম। এই আবহে এবার আইনি পথে হাঁটছে আর্টিস্ট ফোরাম।
