নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ক্রমাগত ট্রোলে রাজ চক্রবর্তী। শুধু তাই নয়, ৪ মে গণনা কেন্দ্র থেকে যখন বেরিয়ে আসছিলেন তিনি, তখন বিজেপি সমর্থকরা ‘চোর চোর’ স্লোগান তোলে, তাঁর গায়ে কাদা ছোঁড়া হয়। এর কয়েকদিন পর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করেন রাজ। কটাক্ষের কারণে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিও রাজ মুছে ফেলেছেন। তবে স্বামীর উপর যখন ধেয়ে আসছে কটাক্ষ, তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শুভশ্রী। লিখেছিলেন, আমাদের সুপারহিরো। আমাদের গর্ব। আমাদের সুপারস্টার, আমাদের ঘর, আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু’। তবে সেখানেও কটাক্ষকারীদের হামলা হয়। যার পর কমেন্ট সেকশন ‘লিমিটেড’ করে দেন।
এবার শুভশ্রীর সোশ্যাল মিডিয়ায় এল একগুচ্ছ ছবি। যেখানে দেখা গেল দুজনে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন থাইল্যান্ডের ক্রাবিতে। ৮ বছরের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে এই ঘুরুঘুরু। ছবিগুলি শেয়ার করে শুভশ্রী লিখেছেন, ‘হ্যাপি অষ্টম, সঙ্গী’!
একদম প্রথম ছবিটিতেই পরম আদরে বউকে চুমু খেতে দেখা গেল শুভশ্রীকে। ব্রেকফাস্ট থেকে ক্যান্ডেললাইট ডিনার, সমুদ্রের ধারে একান্ত মুহূর্ত, সবটা থাকলেও, দেখা মেলেনি তাঁদের দুই সন্তান ইউভান আর ইয়ালিনির। তবে এই পোস্টেও ফেসবুকে শুভশ্রী আর রাজকে ঘিরে কটাক্ষের ঘনঘটা।
২০১৬ সালে ‘অভিমান’ ছবির শুটিং চলাকালীন রাজ আর শুভশ্রীর মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়। যদিও রাজ এর আগেও বসেছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে। কেরিয়ারের শুরুর দিকে, তবে খ্যাতির সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্কেও ভাঙন ধরে। এরপর পায়েল থেকে মিমি, একাধিক নায়িকার সঙ্গে নাম জড়ায় ‘ক্যাসানোভা’ রাজের। শুভশ্রীর অবশ্য বেশ সিরিয়াস প্রেম ছিল দেবের সঙ্গে। তাই সম্পর্কের শুরুতে রাজ আর শুভশ্রী বেশ লুকোছাপা রাখতেন। এমনকী, রেজিস্ট্রি করে নিয়েছিলেন একেবারে গোপনে। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ হয়েছিল আংটি বদল আর আইনি বিয়ে।
এরপর ওই বছরের ১১ মে বাওয়ালি রাজবাড়িতে ধুমধাম করে বিয়ের আনুষ্ঠান হয়। ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁদের কোলে আসে প্রথম সন্তান ইউভান। আর ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর জন্ম হয় মেয়ে ইয়ালিনির।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনে হারার পর রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন রাজ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজের পুরনো ক্ষেত্র অর্থাৎ সিনেমার জগতেই মনোনিবেশ করতে চান। লেখেন, ‘রাজনীতি আমার জন্য নয়, সিনেমা পরিচালনা করেই আমি মানুষকে আনন্দ দিতে চাই।’ সঙ্গে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যে আসা বিজেপি সরকারকেও।