পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা করেছেন। সেই অভিষেক চৌহান হলেন আইপিএস। আদতে বিহারের বৈশালী জেলার হাজিপুরের বাসিন্দা অভিষেক পড়াশোনা করেন পুরুলিয়া থেকে। পরবর্তীতে আইআইটি পড়ে চাকরি পান ভালো জায়গায়। তবে চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। দ্বিতীয় অ্যাটেম্পটেই সাফল্য পান ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায়।
মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির চাকরি ত্যাগ ও ঘরের মাঠে লড়াই
অভিষেকের এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর তিনি একটি বড় স্টার্টআপ ও বহুজাতিক সংস্থায় ভালো বেতনের চাকরি শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মনে ছিল দেশের সেবা করার এক অদম্য ইচ্ছা। সেই লক্ষ্যের দিকে এগোতে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। প্রাথমিকভাবে বেঙ্গালুরুতে ইউপিএসসির প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে নিজের শহর হাজিপুরে ফিরে আসেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পারিবারিক পটভূমি
অভিষেকের পড়াশোনার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায়। তিনি পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপরে হাজিপুর থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। তারপর আইআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।
অনলাইন কোচিং ও সেলফ স্টাডিই সাফল্যের চাবিকাঠি
আজকের দিনে যেখানে ইউপিএসসি ক্র্যাক করার জন্য দিল্লির কোচিং সেন্টারে যান অনেকে, সেখানে অভিষেক সম্পূর্ণ উল্টো পথ বেছে নিয়েছিলেন। হাজিপুরের বাড়িতে বসেই তিনি সেলফ-স্টাডির মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। অভিষেক জানান, তিনি মূলত বাড়িতে থেকে বইপত্র এবং অনলাইন রিসোর্সের (অনলাইন কোচিং ও স্টাডি মেটেরিয়াল) সাহায্য নিয়েছিলেন।

নতুন পরীক্ষার্থীদের জন্য অভিষেকের বিশেষ পরামর্শ
১) ব্যক্তিগত কৌশল ও ধারাবাহিকতা: প্রত্যেকের পড়ার এবং বোঝার কৌশল আলাদা হতে পারে। অন্য কাউকে চোখ বুঝে অনুকরণ না করে নিজের শক্তির জায়গা বুঝে কৌশল তৈরি করা উচিত। তবে প্রস্তুতিতে ‘ধারাবাহিকতা’ বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি।
২) বিগত বছরের প্রশ্নপত্র (PYQs): সিলেবাস শেষ করার পাশাপাশি বিগত বছরগুলির প্রশ্নপত্র বারবার অনুশীলন করা উচিত। এতে পরীক্ষার ট্রেন্ড বোঝা সহজ হয়।
৩) কঠিন বিষয়ে বাড়তি নজর: যে বিষয়গুলি কঠিন বা দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলিকে এড়িয়ে না গিয়ে আরও বেশি সময় দিয়ে বোঝা দরকার।
বিকল্প কেরিয়ার বা ‘প্ল্যান-বি’র গুরুত্ব
বর্তমান যুবসমাজের উপযোগী একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ইউপিএসসি বা যে কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অবশ্যই নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু একইসঙ্গে জীবনের বাস্তবটাকেও মেনে নিতে হবে। যদি কোনো পরীক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করার পরেও সফল হতে না পারেন, তবে তাঁর ভেঙে পড়া উচিত নয়। জীবন এখানেই শেষ হয়ে যায় না। যুবসমাজের উচিত একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর জীবনের অন্যান্য সুযোগ বা বিকল্প কেরিয়ারের কথা ভাবা এবং এগিয়ে যাওয়া।