কলকাতার হেরিটেজ ভেন্যু ‘পোলো ফ্লোটেল’-এ আয়োজিত এই বিয়ে ঘিরেই এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহলে। গঙ্গাবক্ষের এই আলিশান ভেন্যুতে বর-কনের রাজকীয় সাজ থেকে শুরু করে এলাহি ভোজ— সব কিছুতেই ছিল আভিজাত্যের চরম ছোঁয়া। নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করতে হাজির ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই বিয়ের ভেন্যুর খরচ কেমন জানেন?
গঙ্গাবক্ষে এলাহি বিয়ের খরচ কত?
শঙ্কুদেব ও স্বর্ণালির এই ভিভিআইপি বিয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই আমজনতার মনে কৌতূহল জেগেছে, গঙ্গার বুকে এমন রাজকীয় আয়োজন করতে পকেট থেকে কত খসাতে হয়? ওয়েডিং পোর্টাল ‘ওয়েডমেগুড’-এর তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার এই একমাত্র ভাসমান চার-তারকা হেরিটেজ হোটেলে বিয়ের খরচ সাধারণ মধ্যবিত্তের সাধ্যের বাইরে।
প্লেট প্রতি ভোজের খতিয়ান: বিয়ের মূল আকর্ষণ ছিল এখানকার ইন-হাউস ক্যাটারিং। পোলো ফ্লোটেলের নিরামিষ পদের জন্য প্লেট প্রতি খরচ শুরু হয় কম-বেশি ১,৫০০ টাকা থেকে তবে শঙ্কুদেবের বিয়েতে আমিষ পদের আধিক্যই ছিল বেশি। সে ক্ষেত্রে আমিষ মেন্যুর প্লেট প্রতি মূল্য শুরু হয় ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা। বিশেষ ধরনের পদের জন্য এই খরচ আরও চড়তে পারে।
ভেন্যু ও ডেকোরেশন: গঙ্গার হাওয়া আর হাওড়া ব্রিজের ব্যাকড্রপকে সাক্ষী রেখে বিয়ের জন্য এখানকার ‘কনকোর্স লন’ বা ‘প্রমেনেড ডেক’ বুক করতে পকেট থেকে ওড়ে প্রায় ৮৫,০০০ থেকে ১,২৫,০০০ টাকা। এ ছাড়া থিম ডেকোরেশন এবং লাইটিংয়ের জন্য আলাদা রাজকীয় খরচ তো রয়েইছে।
রাত্রিবাসের আয়োজন: দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথিদের থাকার জন্য এই ভাসমান বোটে রয়েছে ৫৮টি বিলাসবহুল ঘর। যার দৈনিক ভাড়া শুরু হয় ৪,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকার কাছাকাছি।

হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে, শঙ্কুদেব-স্বর্ণালির মতো হাই-প্রোফাইল বিয়ের আসরে যেখানে অতিথির সংখ্যা ছিল কয়েকশো, সেখানে সব মিলিয়ে বুকিং ও ভোজের আনুমানিক খরচ ন্যূনতম ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা কিংবা তারও বেশি ছাড়িয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক।
রাজনীতি আর সাংবাদিকতার এই মেলবন্ধনের রাতে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল স্ট্র্যান্ড রোডের একাংশ। তবে বিয়ের খরচের বিপুল অঙ্কের চেয়েও, গঙ্গাবক্ষে এই মনকাড়া রাজকীয় আবহ আবহ তৈরি করেছিল এক পশলা নস্টালজিয়া।