পশ্চিম এশিয়ায় ইরান বনাম আমেরিকার যুদ্ধ নতুন করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে গিয়েছে। এরই মাঝে আরব আমিরশাহি দাবি করেছে, হরমুজে এক ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানি মিসাইল আছড়ে পড়ে ওই ট্যাঙ্কারে। তার জেরে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে আমিরশাহি। এদিকে, এরই মাঝে সৌদি আরবের বিমানবন্দর হামলা চালাতে শুরু করেছে হুথিরা। এমনই দাবি হুথিদের।
হরমুজ ও শুল্ক-
ইরান বনাম আমেরিকা যুদ্ধের মাঝে হরমুজকে ঘিরে শুল্ক প্রসঙ্গের চর্চা তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী দখল করে ২০ শতাংশ শুল্ক নেবে আমেরিকা। এরপরই ইরান, পাল্টা আমেরিকাকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছে। ইরানের মন্ত্রী আরাঘাচি একটি পোস্টে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন,’২০ শতাংশ একটু বেশি, আমরা এর থেকে ভালো’।ইরান দাবি করেছে যে, তারা সর্বদা হরমুজ প্রণালীর ‘অভিভাবক’ ছিল এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা পালন করে যাবে।
ভারতীয় নাবিকের হত্যা-
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী দুটি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও আটজন নাবিক আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। ‘এক্স’ (X)-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রক জানিয়েছে যে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ লেনে ‘মোম্বাসা’ ও ‘বাহিয়া’ নামের ট্যাঙ্কার দুটি আঘাতের শিকার হয়েছে।
সৌদিতে হুথি হামলা-
পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির মাঝই আরব বিশ্বে তোলপাড় শুরু। ইয়েমেনের হুথিরা দাবি করেছে, তাদের মিসাইল আছড়ে পড়েছে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে যে, সোমবার তারা সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্কবার্তার সঙ্গে পরামর্শ দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এই আকাশসীমা এতদিন সেভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি, তবে হুথিদের দাবি তারা এবার সৌদির দিকে আক্রমণ তাক করছে। এমন এক পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কোন রাস্তা নেয় সেদিকে তাকিয়ে সব মহল। পাকিস্তানের প্রতিবেশী ইরান, হুথিদের সমর্থন জানায়। সেই হুথিরা আক্রমণ করছে সৌদিতে, যে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুসারে, পাকিস্তান ও সৌদি, দুটি দেশের কোনও একটিতে হামলা মানেই অপর দেশটিতে হামলার সমান, বলে ধরা হবে।
