বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করল সিআইডি। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে চলা তদন্তে এবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। কালীঘাটে অনুষ্ঠিত স্বাক্ষর সংগ্রহের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট নথিতে তাঁর স্বাক্ষর থাকার সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, বিরোধী দলনেতার নামের সমর্থনে সই সংগ্রহের সময় বহু বিধায়ক বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের নামের পাশে স্বাক্ষর পাওয়া যায়। এই তথ্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার জেরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি।
তদন্তকারীদের মতে, কালীঘাটের ওই বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কারা অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নামে স্বাক্ষর নথিভুক্ত হয়েছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার সম্ভাবনা রয়েছে ফিরহাদ হাকিমের কাছে। সেই কারণেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁর বয়ান রেকর্ড করেছেন বলেও জানা গিয়েছে।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উঠে এসেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি প্রথমবার হাজিরা এড়ান। যদিও অতিরিক্ত সময় চাওয়ার আবেদন মঞ্জুর হয়নি। পরে তাঁকে ফের নোটিস পাঠানো হয় এবং আগামী ৮ জুন ভবানীভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এদিকে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সই জালিয়াতির অভিযোগে কারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং কার নির্দেশে এই কাজ হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। কালীঘাটের বৈঠক, স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন তদন্তকারীদের নজর ফিরহাদ হাকিমের বয়ানে উঠে আসা তথ্যের দিকে। সেই তথ্য থেকে মামলার তদন্তে নতুন কোনও সূত্র মেলে কি না, সেটাই দেখার।
