এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বাংলায় এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর সেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েই মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়া থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এর শুনানিতে কেন রাজনৈতিক দলের বিএলএ-দের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, তার ‘ব্যাখ্যা’ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘বিজেপির লোক নেই বলেই শুনানিতে বিএলএ-দের ঢুকতে দিচ্ছে না।’
আর মাস চারেক পর রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। এরমধ্যেই রাজ্যে এসআইআরের শুনানি পর্ব চলছে। বহু মানুষ হিয়ারিংয়ের নোটিস পেয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, শুনানিতে ঢুকতে পারবেন না বিএলএ ২-রা। এই আবহে এদিন বড়জোড়ার বীরসিংহপুর ময়দানে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমে গত ১৪ বছরে তৃণমূলের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। এরপরেই এসআইআরের শুনানি ইস্যুতে কমিশনকে একহাত নেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এসআইআর পর্বে ৫৮ থেকে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৬০-৭০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ডাকছে। গতকাল পুরুলিয়ায় একজন বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এসআইআর-এর কারণে এত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ওরা বয়স্ক মানুষদের সম্মান করতে জানে না। ওরা বাবা-মায়েদের সম্মান করে না।’ পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে এসআইআর-এ ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর অভিযোগ, কমিশনের অফিসে বিজেপির আইটি সেলের লোক বসে রয়েছে। নামের ইংরেজি বানানের রকম ফেরের জন্য নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির লোক নেই বলেই শুনানিতে বিএলএ-দের ঢুকতে দিচ্ছে না।’ লোকের অভাবের জন্যই বিজেপি এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। বাঁকুড়ার জনসভা থেকে তিনি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে বলেন, ‘একটা ন্যায্য লোকের নাম বাদ দেওয়া হলে আন্দোলন দিল্লিতেও হবে, বাংলাতেও হবে।’ এসআইআর-এর শুনানিকেন্দ্রের বাইরে দলের বিএলএ-দের ক্যাম্প করে বসতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে জনগণের উদ্দেশে তিনি বার্তা দিয়েছে, ‘কেউ ভয় পাবেন না। দল আপনাদের পাশে আছে। সরকারও পাশে আছে।’ বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশ, অসম, ওড়িশা, রাজস্থানে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বাংলায় দেড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। আমরা তো অত্যাচার করি না।’

বলে রাখা ভালো, এসআইআর শুনানিতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও দিব্যাঙ্গদের ডাকা হচ্ছে কেন? এই প্রশ্ন তুলে একাধিকবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই তালিকায় সোমবার যুক্ত হয়েছে দুর্জন মাঝির নাম। অভিযোগ, শুনানিতে সময়মতো পৌঁছতে পারবেন কি না, সেই চিন্তায় প্রাণ হারিয়েছেন বৃদ্ধ দুর্জন মাঝি। মঙ্গলবার, এই ঘটনায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে মৃত দুর্জন মাঝির পরিবার।