একসপ্তাহ আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ২২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে জারি থাকবে নোটাম। তখন থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল, বড় কিছু ঘটাতে চলেছে ভারত। এরই মাঝে জানা গেল, বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ করল ভারত। জানা গিয়েছে কালাম ৪ সিরিজের পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালায় ডিআরডিও। এই মিসাইলের রেঞ্জ প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার।
এর আগে বিশাখাপত্তনম থেকে ৩২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে নোটাম জারি করা হয়েছিল ২৪ ডিসেম্বর সকালে ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়কালে এই এলাকা দিয়ে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়। এদিকে এই সময়কালের জন্য এই অঞ্চলে নোটমারও জারি করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয় একাধিক রিপোর্টে। এই নোটাম জারির পর থেকেই জল্পনা তৈরি হয় যে ভারত হয়ত সমুদ্রভিত্তিক কোনও মিসাইল পরীক্ষা করতে পারে। সেই সময় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মত ছিল, কোনও এত কৌশলগত পরীক্ষার আগে এই ধরনের নোটাম জারি করা স্বাভাবিক বিষয়। এর আগে ডিসেম্বর ১১ এবং ১৭ থেকে ২০ ডিসেম্বরও বঙ্গোপসাগরে এই একই ধরনের নোটাম জারি করা হয়েছিল ৩৫৫০ কিমি দীর্ঘ এলাকা জুড়ে। তবে তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল পরে।
এর আগে গত ২০ অগস্ট ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জের অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করে ভারত। ওড়িশার এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে এই মিসাইলের পরীক্ষণ হয়। এই মিসাইলটি দিঘা, এমনকী বাংলাদেশ থেকেও দেখা গিয়েছিল। অনেকেই সেই মিসাইলের ভিডিয়ো করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এমনই দাবি করেছিলেন। সেই সময় এক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছিল, দূরে মিসাইল উড়ে যাচ্ছে আকাশে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘রকেট! রকেট! ইন্ডিয়া আজকে আবার লঞ্চ করসে নাকি?’ দাবি করা হয়েছিল, ভিডিয়োটি বাংলাদেশ থেকে তোলা হয়। এদিকে বাংলাদেশি প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এর আগে চিনে গিয়ে বাংলাদেশকে ‘উত্তরপূর্ব ভারতের সমুদ্রের গার্ডিয়ান’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে বঙ্গোপসাগরের আসল ‘গার্ডিয়ান’ কে, তা সাম্প্রতিককালে স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত।
