অশান্ত বাংলাদেশে নতুন জীবন শুরু ২ ছাত্র নেতার

Spread the love

গত ১৮ ডিসেম্বর ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। এই আবহে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খান। বুধবার ঢাকার কাঁটাবন মসজিদে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তাঁরা। আর বিয়ের মণ্ডপ থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যার ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদাকে বিয়ে করেছেন এস এম ফরহাদ। তবে মহিউদ্দিন খানের কার সঙ্গে বিবাহ হয়েছে তা জানা যায়নি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উভয় পরিবারের নিকটাত্মীয়রা। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরি, আপ বাংলাদেশ ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা হাজির ছিলেন। তবে বিয়ের আসরে নজর কেড়েছে অন্য একটি দৃশ্য। অনুষ্ঠানে দেখা গেছে, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদ ও এজিএস মহিউদ্দিন তিন জনের হাতে তিনটি প্লেকার্ড রয়েছে। যেখানে লেখা রয়েছে ‘জাস্টিস ফর হাদি।’ এই প্লেকার্ডের ছবি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিয়ের আসরে যাওয়ার আগে ওসমান হাদির সমাধিতেও গিয়েছিলেন তাঁরা।

ডাকসু নেতা এবি জুবায়েরও বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা গেছে, বরের বেশে ফরহাদ ও মহিউদ্দিন ‘জাস্টিস ফর হাদি’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এবি জুবায়ের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানেও সহযোদ্ধাকে না ভোলায় এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দিন খান ভাইকে ধন্যবাদ। আমরা সবাই হাদি হব-যুগে যুগে লড়ে যাব।’ মঙ্গলবার রাতে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিন ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান ও জিএস এসএম ফরহাদ আগামীকাল বিয়ে করছেন। তিনি তাদের জন্য শুভকামনা জানান। ডাকসুর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসএম ফরহাদ ও মহিউদ্দিন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের যথাক্রমে সভাপতি ও সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছেন। ফরহাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ সেশনের এবং মহিউদ্দিন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের ছাত্র। অন্যদিকে, কনে সানজিদার বাড়ি ফেনী জেলায়। তিনি তুলনামূলকভাবে প্রচারবিমুখ হলেও ছাত্র রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা উঠে এসেছে।বিশ্লেষকদের বক্তব্য, বর্তমান বাংলাদেশ চালাচ্ছে মৌলবাদী জামাত, কট্টরপন্থী তৌহদি জনতা এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন বা এনসিপির নেতারা। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। পরিকল্পিত ভাবেই কণ্ঠোরোধ করা হচ্ছে মুক্তমনা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *