Sonam Wangchuk Hunger Strike: নিট-সহ একাধিক প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সরব সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তাঁর আমরণ অনশন আন্দোলন শুক্রবার পা দিল ২০তম দিনে। কিন্তু দীর্ঘ অনশনের জেরে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসকরা ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছেন, যে কোনও মুহূর্তে তাঁর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে পারে। তবে এই চরম শারীরিক কষ্টের মধ্যেও অদম্য লাদাখের এই বীর সন্তান।
দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সোনম ওয়াংচুক স্বীকার করেন যে, তাঁর শারীরিক শক্তি ক্রমশ ক্ষয় হচ্ছে। তবে তাঁর মানসিক দৃঢ়তা এখনও অটুট রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘আমি ২০ জুলাই পর্যন্ত যে কোনও উপায়ে বেঁচে থাকব যাতে আপনাদের সঙ্গে সংসদে মার্চ করতে পারি। যদি আমাদের সংসদ অভিযান সফল না হয়, তবে আমি ভূত হয়ে ফিরে আসব।’ তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তিনি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই আন্দোলন হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের আসল পাঠ। সোনম ওয়াংচুকের কথায়, ‘বাইরে থেকে আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি, কিন্তু ভেতর থেকে আমি খুবই শক্তিশালী। আমি নিশ্চিত, আপনাদের প্রত্যেকের মনোবলও যথেষ্ট দৃঢ়। আগামী ২০ জুলাই আমাদের এই শক্তির প্রয়োজন হবে, কারণ সেদিন আমরা সংসদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করব। আমরা সবাই একসঙ্গে গণতন্ত্রের মন্দিরে গিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরব।’
এদিকে, অনশনের ১৯তম দিনে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকারকে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।
সোনম ওয়াংচুকের ওজন ৯ কেজির বেশি কমে গেছে
বৃহস্পতিবার চিকিৎসকেরা জানান, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিয়মিত তাঁর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে আসা চিকিৎসক সতীশ লাম্বা জানান, দীর্ঘ অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের ওজন ৯ কিলোগ্রামেরও বেশি কমে গেছে। বর্তমানে তাঁর ওজন কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬.৯ কেজি। তবে তিনি এখনও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছেন। পরে সন্ধ্যায় চিকিৎসক সতীশ লাম্বা আরও সতর্ক করে বলেন, অনশনের জেরে তাঁর শরীর এখন পেশি ক্ষয় করতে শুরু করেছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ সোনম ওয়াংচুক। তাঁর বক্তব্য, সরকারের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া ছাড়াই অনশন প্রত্যাহার করা হলে ভুল বার্তা যাবে। তাই তিনি আন্দোলনকে আরও জোরদার করার জন্য মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র ডাকা আগামী ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে ব্যাপক অংশগ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, ওয়াংচুকের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি উত্তাল। আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল যন্তর মন্তরে এসে সংহতি জানিয়ে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত এবং সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী করা উচিত। এছাড়া ওমর আবদুল্লা, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিকাশ সিং এবং বিনোদন জগতের বিশাল দাদলানি, সোনাক্ষী সিনহা, বীর দাসের মতো ব্যক্তিত্বরা সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করেছেন। ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে ইতিমধ্যেই প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। এখন দেখার, নরেন্দ্র মোদী সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়। এদিকে সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেসও।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এবং বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। গত ৬ জুন প্রথম এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। পরে ২৮ জুন থেকে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন।