Sovan-Baisakhi-Hiran। ‘হিরণের জয় তৃণমূলের গালে থাপ্পড়…’!

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গে এখন পালা বদলের সময়। মে মাসে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপাতত দায়িত্ব শুভেন্দু আধিকারির হাতে। ২০৭টি আসন পেয়েছে গেরুয়া দল। জয় হয়েছে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারি, হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো তারকা প্রার্থীদেরও। সম্প্রতি অভিনেতা, বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্য়ায়ের ২০২৬ সালের বিদানসভা নির্বাচনের জয়কে ‘তৃণমূলের গালে থাপ্পড়’ বলে বর্ণনা করেছেন দুঁদে তৃণমূল নেতা, এনকেডিএ (নিউটাউন কলকাতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’)-এর চেয়ারম্যান শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সহবাস সঙ্গী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।

এক সাক্ষাৎকারে টিভি নাইন-কে বৈশাখী বলেন, ‘আমার তো হিরণের জিতটা মনে হয়েছে তৃণমূলের গালে থাপ্পড় মনে হয়েছে। কী সুন্দর করে বুঝিয়ে দিল, যে দলকে ওরা বলে লাভ জিহাদ করে, যে দলকে ওরা বলে কনজার্ভেটিভ, তারা কোনো বিতর্ককে পাত্তা না দিয়ে হিরণকে প্রার্থী করল।’ শুধু তাই নয়, হিরণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বৈশাখী বলেন, ‘আমি খবর পাচ্ছিলাম হিরণ ওখানে ঘরে ঘরে ঘুরছে আর প্রচণ্ড পরিশ্রম করে হিরণ জিতে গেল। হিরণের ব্যক্তি কুৎসা, ব্যক্তিজীবন নিয়ে আসলে কেউ মাথাই ঘামাননি।’

প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের কয়েকদিন আগেই হিরণ ফেসবুকে পোস্ট করে তাঁরদ্বিতীয় বিয়ের খবর দেন। মডেল ঋতিকাকে বিয়ে করেন বেনারসে। এদিকে, হিরণের প্রথম বউ অনিন্দিতার দাবি, তাঁকে ডিভোর্স না দিয়েই এই বিয়ে। যার ফলে তুঙ্গে ওঠে রাজ্য রাজনীতিতে সমালোচনার ঝড়।

শোভন-বান্ধবীর মতে, ব্যক্তিগত কুৎসা নিয়ে মাথা ঘামাননা সাধারণ মানুষ। বলেন, ‘আসলে কে কার বান্ধবী, কে কার বাড়িতে থাকে, এসব মানুষ ভাবে না, তাহলে যারা জেল থেকে ফিরে এসেছে, বান্ধবীদের কারণ দেখিয়ে যাদের জেলে ঢোকানো হয়েছিল, তাহলে মানুষ তাঁদের বাড়ি ঘিরে ধরে, এতদিন জ্বালিয়ে দিত। মানুষ আসলে এখন আর এসবে এত উৎসাহ পায় না।’

অভিনেতা হিরণ্ময় (হিরণ) চট্টোপাধ্যায় ২০২১ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে সরাসরি রাজনীতিতে পা রাখেন। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ঘাটাল কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে হেরে যান দেবের বিপরীতে। তারপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে হাওড়ার শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে, এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন হিরণ।

তৃণমূলের সঙ্গে বরাবরই ঘনিষ্ঠতা বৈশাখীর। এমনকী শোভন ছিলেন প্রাক্তন শসকদলের মন্ত্রীও। তবে তৃণমূল ছাড়েন দুজনে ২০১৮ সাল নাগাদ। বিশেষ করে, দুজনের সম্পর্ক নিয়ে দলের অন্দরে তৈরি হওয়া অসন্তোষ, বাবাহিত শোভনের সঙ্গে বৈশাখীর ঘনিষ্ঠতা নাকি মেনে নিতে পারেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই কিছুটা অভিমানেই দলত্যাগ। তারপর, ২০১৯ সালের ১৪ই আগস্ট শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেনন। তবে কিছুদিন পরেই দলের মধ্যে গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বিজেপি ছাড়েন। দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকার পর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে (২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে) ফিরে আসেন তৃণমূলেই। এমনকী, দলের হয়ে প্রচারেও যোগ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *