Supreme Court। ‘শুধু আন্দোলন বলে লাঠিচার্জ করা যায় না!’

Spread the love

Supreme Court: দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মধ্যেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, শুধুমাত্র আন্দোলন হচ্ছে বলেই লাঠিচার্জ করা যাবে না। বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত জানাল, দেশজুড়ে বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার জন্য একটি অভিন্ন জাতীয় প্রোটোকল জারির প্রয়োজনীয়তার কথা।

এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চে নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে আন্দোলন সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেখানেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রাখল শীর্ষ আদালত। গত ২০ জুলাই ছাত্র-যুবদের ‘সংসদ চলো’ অভিযানে যেভাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে, তার তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন গ্রহণ করে আজ সুপ্রিম কোর্ট জানাল, পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা-র দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, শান্তিপূর্ণ আইনানুগ প্রতিবাদ সংবিধান স্বীকৃত। যতক্ষণ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন হচ্ছে, শুধুমাত্র বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হচ্ছে বলেই সেখানে লাঠিচার্জ হতে পারে না। এদিন শীর্ষ আদালত বলেছে, ‘সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে, আইন মেনে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করার অধিকার সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই যতক্ষণ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ শুধু আন্দোলন বলে লাঠিচার্জ করা যায় না।’

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে যখন আন্দোলন চলছিল, তখন পুলিশদেরও আহত হওয়ার খবর আসে। আলাদাভাবে সেই মামলাও শুনতে রাজি হয় শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ‘যদি পুলিশ বাড়াবাড়ি করে থাকে তাহলে তা খতিয়ে দেখতে হবে।’ পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে আদালত। সরকারকে প্রশ্ন করে সুপ্রিম কোর্ট বলে, ‘পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়েও তদন্ত করা দরকার। সরকারকেও ব্যাখ্যা দিতে হবে যে পুলিশকে কেন পর্যাপ্ত সুরক্ষা গিয়ার দেওয়া হয়নি, যারা বিক্ষোভে আহত হয়েছেন।’ এক্ষেত্রে সব রাজ্যে সুনির্দিষ্ট এক প্রোটোকল থাকা উচিত বলেও পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। প্রধান বিচারপতির কথায়, ‘গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ডিসিপ্লিন অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।’ শুনানিতে আহত পুলিশকর্মীদের পরিবারের পক্ষের আইনজীবীকেও মামলায় অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, পুলিশকর্মী হোন বা ছাত্র-ছাত্রী, আহত হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার সময় পুলিশকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম, যেমন হেলমেট, কেন দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনে এ বিষয়ে রাজ্যগুলির কাছেও জবাব চাওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। শুনানির সময় আদালতে বিহারের সিওয়ানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের মতো মারাত্মক অভিযোগও তোলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সমস্ত আবেদন একসঙ্গে মঙ্গলবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *