ওসমান হাদির দলের হুঁশিয়ারির পরে প্রথমে খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগ, তারপর ১৭ বছর পরে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ‘লিডার’ তারেক রহমানের – কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া ধাক্কা খেলেন মহম্মদ ইউনুস। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল ৯ টা ৫৬ মিনিটে সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তথা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিমান। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সকাল ১১ টা ৫০ মিনিট নাগাদ সেই বিমান নামবে ঢাকায়। আর ঢাকায় তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য উচ্ছ্বাসে ফুটছেন বিএনপি নেতা-কর্মী-সমর্থকরা।
‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’, উঠল স্লোগান
আপাতত যা ঠিক আছে, তাতে ঢাকায় অবতরণের পরে তারেককে পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। সকাল থেকেই সেখানে আসতে শুরু করেছেন বহু মানুষ। কেউ স্লোগান দিচ্ছেন, ‘লিডার আসছেন।’ কেউ আবার বলছেন, ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে।’ অনেকের মুখে শোনা গিয়েছে ‘তারেক রহমান, বীরের বেশে, আসছে ফিরে বাংলাদেশে’-র মতো স্লোগানও। আবার কেউ-কেউ স্লোগান তুলেছেন, ‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে।’
তারেকের প্রত্যাবর্তনে ইউনুসের চাপ?
যদিও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের মুখে কতটা হাসি আছে, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন বানচাল করতে চান ইউনুসরা। সেক্ষেত্রে তাঁরা আরও বেশিদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে পারবেন। কিন্তু তারেকরা সেখানে নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করছেন। সেই আবহে তারেকের পক্ষে সমর্থন দেখে ইউনুসের মুখে হাসি উধাও হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

হাদির দলের কথায় নাচছেন ইউনুসরা?
আবার তারেকের প্রত্যাবর্তনের আগে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক) বকশের ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়ে গিয়েছে। তাঁর ইস্তফার দাবিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হাদির দল ইনকিলাব মঞ্চ। হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে হাদির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জনসমক্ষে না জানালে ইস্তফা দিতে হবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক) বকশকে। সেই আবহেই বুধবার রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। যা গ্রহণ করে নেন রাষ্ট্রপতি। তারপর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে বিবৃতি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয় যে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক) পদ ছেড়ে দিয়েছেন বকশ। তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা জানানো হয়নি।