থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বুধবার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ) বলেছে, ‘এই ধরনের অসম্মানজনক কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে অনুগামীদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।’
উল্লেখ্য, প্রায় দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের পর সোমবার থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী শ্রীবিষ্ণুর মূর্তিটি ধ্বংস করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।তার ভিডিয়োও সদ্য ভাইরাল হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে এই দেবতাকে এই অঞ্চলের জনগণের দ্বারা গভীরভাবে শ্রদ্ধা ও পূজা করা হয়, এটি একাধিক অঞ্চলের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সভ্যতার ঐতিহ্য। রণধীর জয়সোয়াল বলেন,’রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ কবলিত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত হিন্দু ধর্মীয় দেবতার মূর্তি ভেঙে ফেলার খবর আমরা দেখেছি।’ তিনি বলেন,’আমাদের মধ্যে থাকা সভ্যতাগত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে, এই অঞ্চল জুড়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবদেবীদের গভীরভাবে শ্রদ্ধা ও পূজা করা হয়।’ থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সংঘাতের আবহে ভারত উভয় পক্ষকে শান্তি পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছে, এবং আরও বলেছে যে এই ধরনের ‘অসম্মানজনক কাজ বিশ্বজুড়ে অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত করে।’
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের অভিন্ন সভ্যতার ঐতিহ্যের অংশ হিসাবে হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবদেবীরা এই অঞ্চলের মানুষ গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন এবং পূজা করেন। ভারত উভয় পক্ষকে শান্তি ফিরে পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে এই ধরনের অসম্মানজনক কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে অনুগামীদের অনুভূতিতে আঘাত করে।
এস জয়শংকরের নেতৃত্বাধীন বিদেশমন্ত্রক বলছে,’আঞ্চলিক দাবি সত্ত্বেও, এই ধরনের অসম্মানজনক কাজ বিশ্বজুড়ে অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত করে এবং এই ধরনের কাজ করা উচিত নয়। আমরা আবারও উভয় পক্ষকে সংলাপ এবং কূটনীতিতে ফিরে আসার, শান্তি পুনরুদ্ধার করার এবং আরও কোনও প্রাণহানি, সম্পত্তি ও ঐতিহ্যের ক্ষতি এড়াতে আহ্বান জানাচ্ছি।’
২০১৪ সালে নির্মিত বিষ্ণুর মূর্তিটি থাই সামরিক প্রকৌশলীরা একটি বুলডোজার দ্বারা উপড়ে ফেলা হয়েছে সদ্য। বিষ্ণুর মূর্তি ভাঙার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। থাই কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় হিন্দু মূর্তি ধ্বংস করার জন্য থাইল্যান্ডের সমালোচনা করে কম্বোডিয়াও। কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী প্রদেশ প্রেহ ভিহার প্রদেশের মুখপাত্র কিম চানপানহা এএফপিকে বলেন, ‘মূর্তিটি আমাদের ভূখণ্ডের ভিতরে আন সেস এলাকায় ছিল।’ প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুলাই মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় জুলাইয়ে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও চলতি মাসেই লড়াই আবার শুরু হয়।
