Tharoor on Bangladesh situation। ‘ভারতেও বিক্ষোভ হচ্ছে, কিন্তু হিংসা ছড়ায়নি’

Spread the love

বাংলাদেশে যে হিংসা চলছে, তার মধ্যে সেখানকার হিন্দুদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সেই আবহে ভারতের বিভিন্ন সংগঠনও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আর সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠার আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্রে যে কারও প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। এখনও পর্যন্ত এটা মনে হয়নি যে এসব বিক্ষোভ-কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

কোনওরকম হিংসা হলে…..স্পষ্টবার্তা থারুরের

সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে থারুর বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে অস্থির এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতেও কয়েকটি গোষ্ঠী প্রতিবাদ শুরু করেছে। তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই এটা করার অধিকার রয়েছে। আমি মনে করি না যে কেউ এখনও অনুভব করেছে যে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি। কোনও গণপিটুনির ঘটনা ঘটেনি। যদি কোনও ধরণের হিংসার চেষ্টা করা হয়, তবে আমাদের পুলিশ দৃঢ়তার সঙ্গে তার মোকাবিলা করতে সক্ষম।’

ইউনুসের ক্লাস নিলেন থারুর

সেই রেশ ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসকে পরামর্শ দিয়ে থারুর বলেন, ‘বাংলাদেশেও একই কাজ হোক। সেখানকার সরকারকে হিংসা বন্ধ করতে হবে। শুধু দুঃখপ্রকাশ বা নিন্দা করাই যথেষ্ট নয়। সরকার হিসেবে রাস্তায় হিংসা নিয়ন্ত্রণ করা তাদের দায়িত্ব। তাদের এই হিংসা বন্ধ করতে হবে এবং পরিস্থিতি আবার শান্ত হওয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ বোধ করতে পারেন।’

দরকারে সেনা মোতায়েন করুন, বার্তা থারুরের

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপরে হয়ে চলা অত্যাচার এবং হিংসার কথা উল্লেখ করে আসন্ন নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস সাংসদ। থারুর বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে নির্বাচন করা যেতে পারে, যখন পরিবেশ আইনহীন, চারিদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে, যখন ভোটার নিরাপদ বোধ করছেন না? আমরা বাংলাদেশ সরকারকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানাচ্ছি। পুলিশ যদি তা করতে না পারে, তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করুন, কিন্তু এই বাজে কথা বন্ধ করুন।

উল্লেখ্য, কট্টর ভারত-বিরোধী হাদির মৃত্যুর পরে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশে। আগুনে পুড়িয়ে খুন করা হয় হিন্দু যুবককে। তাণ্ডব চালানো হয় বিভিন্ন প্রান্তে। বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় আগুন। ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ের মতো বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *