১৭ বছর পর খালেদা-পুত্রের প্রত্যাবর্তন! নৈরাজ্যের শঙ্কা প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের

Spread the love

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার দলের নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে শক্তি প্রদর্শন করছে। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তারেক রহমানের আবির্ভাবের প্রেক্ষিতেই এই কর্মসূচিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আর তারেকের প্রত্যাবর্তন ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিপজ্জনক খেলা চলছে।’

৬০ বছর বয়সি তারেক রহমান অসুস্থ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র এবং বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের এই আগমনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি বড়সড় সাফল্য পেতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। এই আবহে বার্তা সংস্থা এএনআই-কে প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিপজ্জনক খেলা চলছে…সমস্ত দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আওয়ামী লিগকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাহলে এটি কীভাবে প্রকৃত প্রতিনিধিদের নির্বাচন হতে পারে?’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে দূরে থাকা রাজনৈতিক নেতারা, যারা জনগণের স্পন্দন জানেন না, তাঁরা জনতাকে কতটা অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হবেন… সমস্ত রাজনৈতিক আশা একজন ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দেওয়া বিশাল ঝুঁকির… দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ঐশ্বরিক সাহায্য, সদিচ্ছা এবং মুক্তমনা মনোভাব প্রয়োজন…। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশে প্রতিটি বিষয়ে ভারত-বিরোধী বক্তব্যের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

অন্যদিকে ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক কে পি ফাবিয়ান বলেন, তারেক রহমানের বাবা ও বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর মা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। তাই বিএনপি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে অথবা নির্বাচনে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়, তাহলে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েরই একে অপরের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করা প্রয়োজন, কারণ শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উভয় দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, একদিনে তারেকের আগমন অপরদিকে অগ্নিগর্ভ অবস্থা বাংলাদেশের। শেখ হাসিনাকে হটিয়ে গদিতে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুস। বুধবারই ফের নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ককটেল বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। ময়মনসিংহে দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকেই ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *