মার্কিন বিচার দফতর প্রয়াত অর্থলগ্নিকারী ও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আরও এক দফা নথি প্রকাশ করেছে। আর এই নতুন নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, বহু বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক মহিলাকে ধর্ষণ করেছিলেন। যদিও মার্কিন বিচার দফতর তা নস্যাৎ করে জানিয়েছে, এমন অভিযোগ সত্যি নয়।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এই দফায় প্রায় ৩০ হাজার পৃষ্ঠার নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার বড় অংশই কালো করে দেওয়া হয়েছে। নথি অনুযায়ী, বহু বছর আগে এক মহিলা দাবি করেছিলেন যে তিনি ট্রাম্প ও এপস্টাইনের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এই অভিযোগ ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থার কাছেও জমা পড়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, নথিতে এক লিমুজিন চালকের বয়ানও রয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি এক সময় ট্রাম্পকে এপস্টাইনের সঙ্গে বসে এক নাবালিকার যৌন নির্যাতন নিয়ে আলোচনা করতে শুনেছিলেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এফবিআই আদৌ কোনও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেছিল কিনা, তা নথিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা নেই। তবে নথি প্রকাশের পরেই মার্কিন বিচার দফতর জানায়, এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেও এফবিআই-এর কাছে অনুরূপ অভিযোগ এসেছিল। তবে সেগুলি যাচাই করে কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেই দাবি প্রশাসনের। বিচার দফতরের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। যদি এর ন্যূনতম সত্যতা থাকত, তবে এতদিনে তা রাজনৈতিক বা আইনি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো।’
অভিযোগকারী ওই মহিলার মৃত্যু নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। জানা গেছে, তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন, যা এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। তবে নথিতে এমন কোনও ইঙ্গিত নেই যে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে অভিযোগের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। নতুন প্রকাশিত নথিগুলির মধ্যে একটি ইমেল বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারির ওই ইমেলে লেখা রয়েছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এপস্টাইনের ব্যক্তিগত জেটে আগের চেয়েও অনেক বেশি বার ভ্রমণ করেছেন।’ সেখানে প্রেরক ও প্রাপকের নাম গোপন রাখা হলেও, ইমেলের নিচে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের এক সহকারী মার্কিন কৌঁসুলির উল্লেখ রয়েছে। ইমেল অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে ট্রাম্প অন্তত আটটি ফ্লাইটে এপস্টাইনের জেটে যাত্রী হিসেবে ছিলেন। এরমধ্যে চারটি ফ্লাইটে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল-এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, যিনি বর্তমানে যৌন পাচার মামলায় দোষী সাব্যস্ত। ১৯৯৩ সালের ফ্লাইটে শুধুমাত্র ট্রাম্প ও এপস্টাইন যাত্রী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। অন্য একটি ফ্লাইটে এপস্টিন, ট্রাম্প এবং ২০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির নাম রয়েছে, যদিও সেই ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি ফ্লাইটে এমন দুই নারীর উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে, যাঁরা ম্যাক্সওয়েল মামলায় সম্ভাব্য সাক্ষী হতে পারতেন বলে ইমেলে দাবি করা হয়েছে।
