দরকার শুধু ঠিকঠাক কোচিং এবং পরিকাঠামোর। তাহলেই বিশ্বমঞ্চে বড় সাফল্য পাবেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। আশাবাদী টাটা স্টিল কলকাতা ২৫ কিমি ম্যারাথনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর (ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্ট অ্যাম্বাাসাডর) কেনি বেডনারেক। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘ভারতে প্রচুর প্রতিভা আছে। সঠিক কোচিং, ট্রেনিং পরিকাঠামো এবং রিকভারি সিস্টেম থাকলে এখানকার অ্যাথলিটরা বিশ্বমঞ্চে বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।’ সেই রেশ ধরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজেদের লক্ষ্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন।
ভারতীয় খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে ‘কুং ফু কেনি’ বলেন, ‘আমি সবসময়ই গঠনমূলক অবদান রাখতে আগ্রহী—সেটা আলাপচারিতা, মেন্টরশিপ বা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমেই হোক না কেন। খেলাধুলা জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং আমার এখানে উপস্থিতি যদি ভারতের সেই যাত্রায় সহায়ক হয়, তবে আমি গর্বিত বোধ করব।’
ভারতের ক্রমবর্ধমান ক্রীড়া সংস্কৃতি নিয়ে অলিম্পিক পদকজয়ী মন্তব্য করেন, ‘খেলাধুলার প্রতি ভারতের আবেগ অনস্বীকার্য। অ্যাথলেটিক্স, ফুটবল, ক্রিকেট বা ডিসট্যান্স রানিং—প্রতিযোগিতা এবং ঐক্যের প্রতি এখানে অকৃত্রিম ভালোবাসা রয়েছে। এই ধরণের ইভেন্টগুলি দেখায় যে কীভাবে খেলাধুলা বিভিন্ন বয়স, প্রেক্ষাপট এবং দক্ষতার মানুষকে একত্রিত করতে পারে।’
কেনি বিশ্বের অন্যতম সেরা স্প্রিন্টার। ২০২০ সালের টোকিয়ো অলিম্পিক্সে এবং ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে ২০০ মিটার দৌড়ে রুপো জিতেছেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও জিতেছেন রুপোও। ডায়মন্ড লিগের নিয়মিত সফল এই অ্যাথলিটের ব্যক্তিগত সেরা সময় হল ১৯.৪৯ সেকেন্ড। তিনি বিশ্বমঞ্চে আমেরিকান স্প্রিন্টিংয়ের অন্যতম মুখ। সেই কেনি বলেন, ‘আপনি শারীরিকভাবে প্রস্তুত এবং অত্যন্ত প্রতিভাবান হতেই পারেন। কিন্তু দৌড়ের দিনে যদি আপনি মানসিকভাবে শক্তিশালী না হন, তবে কোনও কিছুই কাজে আসবে না। স্প্রিন্টিং প্রায় ৯০ শতাংশই মানসিক শৃঙ্খলা; ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্তরে পারফর্ম করার চাবিকাঠি হল দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস এবং রিকভারি।’

সেইসঙ্গে আমেরিকান স্প্রিন্টিংয়ের পুনরুত্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমেরিকান স্প্রিন্টিং সবসময়ই শক্তিশালী ছিল। উসেইন বোল্ট ছিলেন অনন্য উচ্চতায়, কিন্তু বর্তমানে আমেরিকা খুব ভালো অবস্থানে আছে। সামনে বড়-বড় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ঘরের মাঠে অলিম্পিক্স থাকায় আগামী কয়েক বছর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।’
আর টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতা সম্পর্কে বেডনারেক বলেন, ‘এটি কেবল একটি দৌড় নয়, এটি একটি উৎসব। হাজার হাজার দৌড়বিদ—এলিট অ্যাথলিট থেকে শুরু করে শৌখিন এবং প্রথমবারের দৌড়বিদদের একই রাস্তায় দেখতে পাওয়াটা অনুপ্রেরণাদায়ক। আমি রবিবার রেস ডে খুব কাছ থেকে দেখার এবং দৌড়বিদদের উৎসাহিত করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’