TMC Councilor Shams Iqbal। তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত শামস ইকবাল! শুভেন্দুকে প্রণাম করা কাউন্সিলরের ওপর চাপ তারাতলা মামলাতেও

Spread the love

তোলাবাজির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর শামস ইকবালকে গ্রেপ্তার করল গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ। অভিযোগ, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা জোর করে আদায় করার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমেই শামস ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডের সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন এই শামস ইকবাল। পরে তারাতলায় গুদাম ধস মামলায় ফিরহাদের পাশাপাশি শামসের নামেও অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে। মোট প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতেই গার্ডেনরিচ থানায় এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু তথ্য ও নথি হাতে পাওয়ার পর শামস ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

এই গ্রেপ্তারের পাশাপাশি শামস ইকবালের বিরুদ্ধে আগেই দায়ের হওয়া তারাতলা কাণ্ডের মামলাও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, সংঘবদ্ধভাবে হামলা, ভয় দেখানো, সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুর এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অপরাধে তাঁর নাম উঠে আসে। সেই মামলার তদন্তও এখনও চলছে।

তদন্তকারীদের মতে, তারাতলা কাণ্ডে শামস ইকবালের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক তোলাবাজির অভিযোগের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে দুটি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে বলেও পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এছাড়া অভিযুক্তের আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

যদিও শামস ইকবালের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। আদালতেই সমস্ত অভিযোগের জবাব দেওয়া হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, শামস ইকবালকে দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। তাঁর গ্রেপ্তারের পর বিরোধীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তে যে তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তোলাবাজির অভিযোগ ও তারাতলা কাণ্ড—দুই মামলাতেই তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *