আফগানিস্তানে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধে ন্যাটোভুক্ত অ-মার্কিনি বাহিনীর অবদান কার্যত অস্বীকার করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাভোসে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ন্যাটোভুক্ত মিত্রদেশগুলি নিয়ে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। আর তাতে বেজায় চটেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটো সেনা পাঠালেও তারা সম্মুখ সমরে যায়নি। তারা নাকি ‘নিরাপদ দূরত্বে’ থেকেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি সবসময় বলেছি, যদি আমাদের কখনও তাদের (ন্যাটো) প্রয়োজন হয়? তারা কি সেখানে থাকবে? এটাই আসলে চূড়ান্ত পরীক্ষা। এবং আমি নিশ্চিত নই।’
প্রসঙ্গত, ন্যাটোর ৫ নং আর্টিকেল নিয়ে এই কথাটি উঠেছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, একজন সদস্যের বিরুদ্ধে আক্রমণ সকলের বিরুদ্ধে আক্রমণ। ৯/১১ টুইন টাওয়ার হামলার পরে আমেরিকা প্রথমবার এই ধারা প্রয়োগ করেছিল। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে মার্কিনিদের যুদ্ধে সেনা পাঠিয়েছিল ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি। তবে ট্রাম্প এই নিয়ে বলেন, ‘আমাদের তো কখনও তাদের প্রয়োজন ছিল না। আমরা কখনও তাদের কাছ থেকে কিছু চাইনি। তারা বলবে যে তারা আফগানিস্তানে কিছু সৈন্য পাঠিয়েছে। সেখানে তারা কিছুটা পিছনেই থেকেছে, সামনের সারি থেকে দূরে থেকেছে।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে অপমানিত ব্রিটেন। আফগানিস্তানে ব্রিটেনের কয়েকশো সেনা প্রাণ হারিয়েছিলেন। এহেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ট্রাম্পকে তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একেবারেই ঠিক বলেছেন – জোটের অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় আমেরিকা ন্যাটোর জন্য বেশি কিছু করেছে। কিন্তু তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা অপমানজনক এবং স্পষ্টতই ভয়াবহ। সেই যুদ্ধে নিহত বা আহতদের প্রিয়জনদের এই কথা কষ্ট দিয়েছে। আমি যদি এমন ভুলভাল কথা বলতাম, তাহলে অবশ্যই ক্ষমা চাইতাম।’ ডাউনিং স্ট্রিট এক কড়া বিবৃতিতে বলেছে, আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ থাকা উচিত নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ৪৫০ ব্রিটিশ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার সেনার অঙ্গহানী হয়েছে।

উল্লেখ্য, গদিতে বসেই ন্যাটোর ইউরোপীয় শরিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন ট্রাম্প। ন্যাটোতে তাদের অবদান বৃদ্ধির জন্যে ইউরোপিয়ানদের বলেছেন ট্রাম্প। নানা সময় ইউরোপকে অপমান করেছেন তিনি। আবার সাম্প্রতিককালে গ্রিনল্যান্ড নিয়েও ন্যাটোভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে ট্রাম্পের। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের গঠিত বোর্ড অফ পিসে তুরস্ক ছাড়া বড় কোনও ন্যাটোভুক্ত দেশ অংশ নেয়নি। এরই মাঝে ন্যাটোভুক্ত মিত্রদেশগুলির সৈনিকদের কার্যত অপমান করে ইউরোপীয়দের আরও যেন দূরে ঠেলে দিলেন ট্রাম্প।