ফের একবার ভারত-পাক সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব দাবি করে ‘আকাশ-কুসুম’ মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। হোয়াইট হাউজে একটি অনুষ্ঠানে গতকাল ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে তিনি ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এই দাবিটি সর্বপ্রথম মিশর যাওয়ার পথে করেছিলেন ট্রাম্প। আর এবার এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এই ‘২০০ শতাংশ শুল্ক’ নিয়ে দাবি করলেন ট্রাম্প। এরই সঙ্গে নিজের পুরনো রেকর্ডও বাজিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই আবহে ফের ভারতকে ‘হেয়’ করার চেষ্টা করছেন বা অপমান করছেন ট্রাম্প? কারণ, ফের নতুন করে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত এই দাবি করে ভারতকে দূরে ঠেলতে শুরু করবেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ‘আকাশ কুসুম’ দাবিতে ভারতের আত্মসম্মানবোধে ফের লাগবে জোর ধাক্কা।
ট্রাম্প গতকাল বলেন, ‘আমরা বাণিজ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অনেক যুদ্ধ বন্ধ করে দিয়েছি। উদাহরণস্বরূপ, ভারত ও পাকিস্তান… তারা খুব কঠোরভাবে লড়াই করছিল। সাতটি বিমান ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল… খারাপ কিছু ঘটছিল এবং আমি তাদের দুজনের সাথেই বাণিজ্য নিয়ে কথা বলছিলাম… আমি বলেছিলাম যে তারা যুদ্ধ বন্ধ না করলে আমরা কোনও বাণিজ্য চুক্তি করব না। আমি তাকে ফোন করে বললাম, শোনো, তুমি যদি এই যুদ্ধ বন্ধ না করো, তাহলে আমরা তোমার দেশের যেকোনও পণ্যের উপর ২০০% শুল্ক আরোপ করব… আমি উভয় দেশের নেতাদের সাথে কথা বলেছি। আমি তাদের উভয়কেই পছন্দ করি। কিন্তু আমি তাদের স্পষ্ট বার্তা দিই এবং পরের দিন আমার কাছে ফোন আসে। তারা বলে, আমরা উত্তেজনা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি… আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা যুদ্ধ করব না… আমি যুদ্ধ বন্ধ করতে ভালোবাসি।’
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপরই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর ৭ মে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে শতাধিক সন্ত্রাসবাদীকে খতম করে ভারত। এর পরের দিনগুলিতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। পাকিস্তান ভারতীয় বিমানঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল। পালটা জবাবে পাকিস্তানের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল ভারত। পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দিয়েছিল ভারত। রাওয়ালপিন্ডি, করাচি, লহোরের মতো শহরে আছড়ে পড়েছিল ভারতীয় মিসাইল। এই আবহে পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির জন্য কাতর আর্তি জানিয়েছিল ভারতের কাছে। সেই আর্তি মেনে অপারেশন সিঁদুর স্থগিত করতে সহমত হয়েছিল ভারত।

এরপর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার ভারত-পাক আলোচনার মধ্যস্থতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, বাণিজ্য আলোচনাকে হাতিয়ার করে ভারত-পাক সংঘাত থামান তিনি। তবে নয়াদিল্লি বারবার এই দাবি অস্বীকার করে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার সংঝোতা দ্বিপক্ষীয়ভাবে হয়েছে। পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতীয় ডিজিএমও-কে ফোন করে হামলা ব্ধের আর্জি জানিয়েছিলেন। এই আবহে ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। অন্যদিকে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল পাকিস্তান। তবে ভারত সেই সবে পাত্তা দেয়নি। এই সবের মাঝেই ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন ট্রাম্প। মোদীকে একটা সময় ৪ বার ফোন করলেও মোদী কথা বলেননি ট্রাম্পের সঙ্গে। জি৭ সম্মেলনের সময় ফোনে কথোপকথন চলাকালীন ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতি দাবির বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিলেন মোদী। তবে ট্রাম্প প্রায় প্রতিদিনই যপ করার মতো একবার করে দাবি করে চলেন, তিনি ৭-৮টা যুদ্ধ থামিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ভারত-পাক যুদ্ধ। এবং তাতে নাকি তিনি বাণিজ্যকে হাতিয়ার করেছেন। তবে ভারত-আমেরিকার মধ্যে সেই বাণিজ্য চুক্তি আজও সম্পন্ন হল না। পাশাপাশি ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের কোনও কথাই হয়নি। যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, তিনি নাকি ভারতের সঙ্গে সেই সময় কথা বলে ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে।