UP Political Speculation Update। বঙ্গের পুনরাবৃত্তি উত্তরপ্রদেশে? ‘দুই ডজন’ বিরোধী সাংসদ দলবদলের অপেক্ষায়

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গের পরে এবার উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ফের জোরদার হয়েছে দলবদলের জল্পনা। রাজ্যের এক মন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। তাঁর বক্তব্য, সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং কংগ্রেসের প্রায় দুই ডজন সাংসদ শিবির বদলের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী এবং সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির (এসবিএসপি) প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর দাবি করেছেন, বিরোধী শিবিরের বহু সাংসদ বর্তমান নেতৃত্বে অসন্তুষ্ট। তাঁর মতে, সমাজবাদী পার্টির অন্দরেই বড় ধরনের ভাঙনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং একাধিক সাংসদ নতুন রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছেন।

এর আগেও উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য একই ধরনের দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সমাজবাদী পার্টির ২৫ থেকে ২৬ জন সাংসদ দল ছাড়তে প্রস্তুত রয়েছেন। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে, এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে সমাজবাদী পার্টি। দলের প্রধান অখিলেশ যাদব দাবি করেছেন, বিরোধী দলের সাংসদ নয়, বরং বিজেপিরই একাংশের বিধায়ক এবং নেতা অসন্তুষ্ট। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতেই এ ধরনের দাবি করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী শিবিরে ভাঙনের ঘটনা সামনে এসেছে। মহারাষ্ট্রে শিব সেনা (উদ্ধব ঠাকরে)-এর একাধিক সাংসদ বিদ্রোহী হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে উত্তরপ্রদেশেও বিরোধী শিবিরে ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত দলত্যাগ বা ভাঙনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সাংসদ এনসিপিআই নয়া দলে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের ঘোষণা করেছে ইতিমধ্যেই। এরই মধ্যে এবার জল্পনা উত্তরপ্রদেশ নিয়ে।

বিরোধী নেতাদের দাবি, বিজেপি এবং তার সঙ্গীরা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য এ ধরনের বক্তব্য সামনে আনছে। অন্যদিকে শাসক জোটের নেতারা বলছেন, বিরোধী শিবিরের ভিতরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে এবং তার প্রভাব আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে সত্যিই কোনও সাংসদ দলবদল করবেন কি না, তা আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *