ইরান যুদ্ধকে ঘিরে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বেড়েছে। সদ্য ওমান উপকূলের কাছে এক জাহাজে আমেরিকার তরফের হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভারতের বিদেশমন্ত্রক ৪ দিনের মধ্যে ২ বার পর পর মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে প্রতিবাদ জানায়। এই ঘটনার কড়া নিন্দা করে দিল্লি। এরপরই এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া দাবি।
ওমান উপকূলে শুধু ভারতীয় নাবিক সমেত একটি জাহাজই মার্কিন হানার নিশানা হতেই কড়া ভাষায় দিল্লি জানায়, ‘গত কয়েক দিনে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমাদের নাবিক সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও সুরক্ষার বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’ এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, ‘ ..তাছাড়া, হরমুজ প্রণালী ছেড়ে যাওয়া ভারতীয় জাহাজগুলোর ওপর গত রাতে চালানো ড্রোন হামলাটি যে পুরোপুরি প্রতিহত করা হয়েছে, সেই হামলার ঘটনাটিই সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী ছেড়ে বের হওয়া ভারতীয় জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক কড়া ভাষায় লেখা পোস্টে তিনি এই কথিত ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, ৮ই জুন থেকে ১১ই জুনের মধ্যে ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকবাহী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। ৮ই জুন, ২৪ জন ভারতীয় নাবিকবাহী পালাউ-এর পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘মারিভেক্স’ অচল হয়ে পড়ে, তবে সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। ১০ই জুন ‘সেত্তেবেলো’ ট্যাঙ্কারটি আক্রান্ত হয়, যার ফলে এতে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়। ১১ই জুন গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘জালবীর’ (Jalveer)-এর ওপরও হামলা চালানো হয়, এতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। একের পর অএক ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে যে দিল্লি ভালো চোখে দেখছে না, তা মার্কিন কূটনীতিককে তলবের ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।
