US on Iranian Oil Sanctions। যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সেই ইরানি তেলের ওপর থেকেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথে আমেরিকা

Spread the love

যুদ্ধ চলছে ইরানের বিরুদ্ধে। আর সেই ইরানেরই তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বার্তা দিলেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। গতকাল এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বেসেন্ট বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আগেই সমুদ্রে থাকা ১৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন তারা। আর এবার ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারেন তারা। ইরানের যে তেল সমুদ্রে রয়েছে, সেই তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে জানান স্কট বেসেন্ট।

এই স্কট বেসেন্ট এর আগে ভারতের রুশ তেল কেনা নিয়ে বিশাল আপত্তি জানিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধের আবহে আমেরিকাই সেই রুশ তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। আর এখন যে ইরানের বিরুদ্ধে তারা লড়ছে, সেই ইরানি তেলের ওপর থেকেও নাকি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে তারা। ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার পর থেকে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় পালটা হামলা চালাচ্ছে সৌদি, কাতারের জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর। এতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের তেলের ওপরই এখন ‘ভরসা’ আমেরিকার। বেসেন্ট দাবি করেন, বর্তমানে সমুদ্রে বিভিন্ন ট্যাঙ্কারে ইরানের ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আছে। তা ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত বিশ্ব বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। উল্লেখ্য, ইরান যাতে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসে, এর জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাদের তেলের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে আমেরিকা। এমনকী ২০১৩ সালে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার জেরে ভারতও ইরানের থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ’য়ে শ’য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। এরই সঙ্গে কাতারে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস প্লান্টে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। যার জেরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি মূল্য রকেট গতিতে ছুটছে। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজকে তারা হরমুজে আটকাবে না। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এরই সঙ্গে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে যেতে দিচ্ছে ইরান। এই আবহে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের নিশ্চয় কোনও চুক্তি হয়েছে এবং বিনিময়ে ইরান ‘কিছু পাবে’। যদিও মার্কিন কর্মকর্তার এহেন দাবিকে উড়িয়ে দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিজে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *