রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করল মার্কিন সেনেট। শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে দ্বিদলীয় সমর্থনে পাশ হয়েছে এই বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপর চাপ বাড়ানো এবং রুশ যুদ্ধযন্ত্রের অর্থের জোগান বন্ধ করাই এই বিলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রাশিয়ার তেল, গ্যাস-সহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে থাকা দেশগুলির উপরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রায় এক বছর ধরে এই নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরও সেই উদ্যোগ থামেনি। গ্রাহামের সঙ্গে এই বিল নিয়ে কাজ করা সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, এই ভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের মানুষকে জানানো হচ্ছে যে আমেরিকা তাদের একা ছেড়ে দেবে না। পুতিনের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, রাশিয়া ইউক্রেন দখল করতে পারবে না।
বিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থান হল রাশিয়ার তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের উপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া। সেই তালিকায় ভারত ও চিনও রয়েছে। তবে রাশিয়া থেকে মোট প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পরিমাণ ১৫ শতাংশের কম এবং সেই নির্ভরতা কমানোর জন্য পদক্ষেপ করছে—এমন দেশগুলিকে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শুধু রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলিই নয়, বিলের আওতায় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন, শীর্ষ রুশ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তাব্যক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রুশ জ্বালানি প্রকল্পগুলির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ থাকছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া যে পুরনো বা নতুন পতাকা লাগানো তেলবাহী জাহাজ ব্যবহার করছে, সেগুলিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে প্রেসিডেন্টের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়া নিয়ে সেনেটে বিতর্কও হয়েছে। রিপাবলিকান সেনেটর র্যান্ড পল এবং ডেমোক্র্যাট রন ওয়েডেন এমন একটি সংশোধনী আনেন, যাতে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে সেই সংশোধনী খারিজ হয়ে যায়। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন নাগরিকদের উপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।

ডেমোক্র্যাট সেনেটর রাফায়েল ওয়ার্নকও এই শুল্ক ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি বিলটি এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা সরিয়ে নেন। তাঁর দাবি, রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা বা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার তালিকা থেকে কোনও দেশ বাদ পড়লে সেই দেশের উপর আরোপিত শুল্কও প্রত্যাহার করা হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে গিয়ে দুই দলের সেনেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তিনি ইউক্রেনের জন্য আরও মার্কিন সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান এবং নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানান। ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহাও সেনেটের সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।