ভারতীয় ক্রিকেট দলের মহাতারকা বিরাট কোহলি (Virat Kohli)-র পঞ্জাবি গানের প্রতি ভালোবাসার কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কিছু গান কেবল বিনোদন দেয় না, মানুষের জীবনের নিজস্ব লড়াই আর যন্ত্রণার গল্প মনে করিয়ে দেয়। গ্লোবাল পঞ্জাবি সেনসেশন করণ আউজোলা (Karan Aujla)-র একটি বিশেষ গান ঠিক এইভাবেই বিরাটের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। ‘ওয়ানএইট’ (One8)-এর একটি বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বিরাট কোহলি খোলসা করলেন, কর্ণের কোন গানটি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় এবং কেন তিনি মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে বারবার সেই গানটির কাছেই ফিরে যান।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-এর শেয়ার করা একটি ভিডিওতে বিরাটের এই আবেগঘন বয়ান এবং ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই অবিশ্বাস্য ম্যাচের স্মৃতিচারণ এখন নেটপাড়ায় তুমুল ভাইরাল।
‘আমিও ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছি’— গানের মাঝে নিজের জীবন খুঁজে পাওয়া
বিরাট কোহলি মঞ্চে সরাসরি গায়ক করণ আউজনার প্রশংসা করে জানান, কর্ণের ‘উইনিং স্পিচ’ (Winning Speech) গানটি তিনি নিজের জীবনের সাথে গভীরভাবে মেলাতে পারেন। বিরাট বলেন, ‘করণ, তুমি মন থেকে গান লেখো। তোমার সব গানের মধ্যে আমি যার সাথে সবচেয়ে বেশি সংযোগ খুঁজে পাই, সেটা হলো ‘উইনিং… স্পিচ’। কারণ এই গানটা সম্ভবত তোমার জীবনের সেই কঠিন জার্নিটাকে ফুটিয়ে তুলেছে। আর আমি এর সাথে আমার নিজের জীবনের অনেক মিল দেখতে পাই। আমিও খুব ছোটবেলায় আমার বাবাকে হারিয়েছিলাম। তাই এই গানটা আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল। মাঠে ম্যাচ খেলতে নামার আগে আমি প্রায়শই এই গানটা লুপে শুনি।’
মেলবোর্নের সেই ১% আশা এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ম্যাজিক’
অনুষ্ঠানে বিরাট শুধু গানের কথাই বলেননি, নিজের ‘নেভার-সে-ডাই’ (কখনও হার না মানা) মনোভাব নিয়েও মুখ খুলেছেন। নিজের কথার স্বপক্ষে তিনি ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা সেই ঐতিহাসিক ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের উদাহরণ টানেন।

সেই অবিশ্বাস্য ইনিংসের স্মৃতি হাতড়ে কিং কোহলি বলেন, ‘আমি আসলে এইভাবেই তৈরি হয়েছি। পরিস্থিতি যখন এমন জায়গায় পৌঁছায় যেখানে মানুষ মনে করে সব শেষ, ঠিক সেই খাদের কিনারা থেকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতিগুলো আমি মনে-প্রাণে খুঁজি। খুব ছোটবেলা থেকেই আমি পরিস্থিতিকে এভাবে দেখতে অভ্যস্ত। খেলার শেষ বল পর্যন্ত আমি বিশ্বাস হারাই না যে ম্যাচটা আমরা হেরে গেছি বা জিততে পারব না। আর সেই বিশ্বাসের জেরেই কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটে গেছে।’
মেলবোর্নের ম্যাচটি নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন:
“আমাকে পরে বলা হয়েছিল যে, একটা সময় ওই ম্যাচে আমাদের জেতার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ! কিন্তু আমি কখনও ওভাবে ভাবিইনি। আমার কাছে মাত্র ১ শতাংশ আশাই যথেষ্ট। যদি সামান্যতম সুযোগও থাকে, তবে চেষ্টা করতেই হবে। তাই যতক্ষণ না তুমি ম্যাচটা সত্যি সত্যিই হেরে যাচ্ছ, ততক্ষণ লড়াই ফুরিয়ে যায় না।”