বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নানা রাজনৈতিক বিতর্কও তাড়া করে বেড়াচ্ছে ইরানকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে চাপের মুখে পড়েছিল দলটি। ফলে ফুটবলের চেয়ে রাজনীতির কারণেই বেশি আলোচনায় ছিল ইরান। তবে সেই সব আলোচনার জবাব তারা দিল মাঠেই।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘জি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিল ইরান। ম্যাচের নায়ক গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভন্দ। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামনে বারবার ব্যর্থ হয়েছে বেলজিয়ামের তারকাখচিত আক্রমণভাগ। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। বলের দখল বেশি ছিল তাদের কাছেই। একের পর এক সুযোগও তৈরি করে ইউরোপের দলটি। কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান আলিরেজা বেইরানভন্দ এবং ইরানের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ।
সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৬০ মিনিটে। বেলজিয়ামের তারকা মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনা বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিখুঁত পাস বাড়ান ম্যাক্সিম ডি কুইপারের উদ্দেশে। গোল প্রায় ফাঁকাই ছিল। খুব কাছ থেকে শট নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ডি কুইপার। গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকরা প্রায় গোল দেখেই ফেলেছিলেন।
কিন্তু অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সেই শট রুখে দেন বেইরানভন্দ। গোলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁ হাত দিয়ে বল সরিয়ে দেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই সেভকে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা সেভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু এই একটি মুহূর্ত নয়, পুরো ম্যাচেই দুর্দান্ত ছিলেন ইরানের গোলরক্ষক। মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। অন্যদিকে ইরানের রক্ষণভাগও ছিল দুর্ভেদ্য। ফলে ২৩টি শট নিয়েও গোল করতে পারেনি বেলজিয়াম।
তবে ম্যাচে জয়ের সুযোগ ইরানের সামনেও এসেছিল। প্রথমার্ধে একটি চমৎকার ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠিয়েছিল তারা। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। ৬৬ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার নাথান এনগয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় বেলজিয়াম। সেই সুযোগে কয়েকবার আক্রমণে উঠে আসে ইরান। তবে বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

শেষ পর্যন্ত বহু চেষ্টার পরও কোনও দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে। এই ড্রয়ের ফলে ‘জি’ গ্রুপের লড়াই আরও জমে উঠেছে। এখনও পর্যন্ত গ্রুপে মিশর ছাড়া কোনও দলই জয়ের মুখ দেখেনি। ইরান ও বেলজিয়াম দুটি করে ম্যাচ খেলে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে মিসর ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্টে পৌঁছে গেছে ও নিউজিল্যান্ড ১ পয়েন্টে রয়ে গিয়েছে।