দিল্লির সংসদ থেকে সরাসরি গ্রামের মাঠে। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি সাংসদ মিতালি বাগ। সংসদের অধিবেশন শেষে এলাকায় ফিরেই কৃষিকাজে হাত লাগাতে দেখা গেল তাঁকে। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন মিতালি বাগ। সেখানে দেখা যায়, মাঠে নেমে কাস্তে হাতে তিল কাটছেন তিনি। সাধারণ কৃষকের মতোই জমিতে কাজ করছেন সাংসদ। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।
তবে শুধু ভিডিও নয়, তার সঙ্গে লেখা ক্যাপশনও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। মিতালি লিখেছেন, ‘আমি লিপস্টিক নিয়ে পার্লামেন্টের ভেতরে ঢুকি না, পার্লামেন্টের ভিতরে ঘন ঘন লিপস্টিকও পরি না ঠোঁটে, কারও নজর কাড়ার জন্য। আমার পরিচয়— আমি কৃষক পরিবারের মেয়ে। আমি যা, আমি তাই।’ এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষে কোনও এক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা প্রাক্তন দলীয় নেত্রীকে নিশানা করতে চেয়েছেন। যদিও কারও নাম উল্লেখ করেননি মিতালি বাগ। ফলে তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত লক্ষ্য কে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা গিয়েছে। দলের বহু সাংসদ ও নেতা প্রকাশ্যে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন মিতালি বাগও। তিনি বর্তমানে বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত। এনডিএ-সমর্থিত রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠে নেমে কৃষিকাজের ভিডিও প্রকাশ এবং কৃষক পরিবারের মেয়ে হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক এবং গ্রামীণ শিকড়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন বলে মত অনেকের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে পরিচিত মিতালি। বাবার সঙ্গে নিয়মিত মাঠে যেতেন তিনি। রাজনীতিতে প্রবেশের পর সাংসদ হলেও সেই অভ্যাস পুরোপুরি বদলায়নি। সুযোগ পেলেই গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কৃষিজমির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষেতের কাজেও অংশ নেন। সব মিলিয়ে, মিতালি বাগের এই ভিডিও এবং মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। তবে সমর্থকদের দাবি, তিনি শুধু নিজের পরিচয় এবং জীবনযাত্রার বাস্তব ছবিটাই তুলে ধরেছেন। আর সেই কারণেই ভিডিওটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
