সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো রাজ্য সরকারকে মহার্ঘ ভাতা (ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ) মিটিয়েই দিতে হবে। দাবি করলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, এবার সুপ্রিম কোর্টে যেরকম রায় দিয়েছে, তাতে পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ রাজ্য সরকারের টালবাহানা করার সম্ভাবনা কম। রাজ্য কোনওরকম জারিজুরি করতে পারবে না। কিন্তু তাও এই রাজ্য সরকারের উপরে পুরোপুরি ভরসা করা যায় না বলে দাবি করেছেন কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। সেই পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আগেভাগেই পরবর্তী ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে বলে কনফেডারেশন সূত্রে খবর।
বকেয়া DA মামলায় কী কী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট?
এমনিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে অবিলম্বে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের। বাকি থাকা ৭৫ শতাংশ ডিএ কীভাবে দেওয়া যায়, সেজন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি ঠিক করবে যে কীভাবে বকেয়া ডিএ দিতে হবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের। সেক্ষেত্রে শীর্ষ আদালত নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ।
ডিএ মামলার রায় নিয়ে সরকারি কর্মীরা কী বললেন?
আর সেই মামলার রায়ের বিষয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত। তবে বকেয়া ১০০ শতাংশের ক্ষেত্রে একই রায় হলে আরও ভালো হত।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশা করব, এই রায়কে মান্যতা দিয়ে রাজ্য সরকার দ্রুত বকেয়া মিটিয়ে দেবে। রোপা ১৯-র ক্ষেত্রে ডিএয়ের উল্লেখ রাখা হয়নি। এ ব্যাপারেও রাজ্য সরকার অবস্থান পরিবর্তন করে এআইসিপিআই (সর্বভারতীয় মূল্যসূচক) অনুযায়ী নিয়মিত মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।’

রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য জোড়া ঘোষণা
সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের চার শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। যাঁরা আপাতত ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। আগামী এপ্রিল থেকে তাঁরা ২২ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন। সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা করা হয়েছে।