বাংলায় ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের আবহে এখনও পর্যন্ত বাদ যেতে পারে ৫৭ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই তথ্যই জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। যত দিন যাচ্ছে, ততই এই সংখ্যাটা বাড়ছে। রিপোর্টে দাবি করা হল, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা ৫৭ লক্ষ ১ হাজার ৫৪৮। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ আট হাজার ৫৭৪।
এছাড়া স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৯৩, নিখোঁজ ভোটার ১১ লক্ষ ২৭ হাজার ৬৪৩, ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৩২, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা ৫০ হাজার ৭০৬। এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও বেশ কিছু জায়গায় আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা আপলোড করা হয়নি। এই আবহে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। সেই তালিকা সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ এবং দাবি কমিশনে জানানো যাবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা, বিতর্কের নিষ্পত্তি করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
প্রসঙ্গত, মূলত চারটি ক্ষেত্রে একটি ফর্ম ‘আনকালেক্টবল’ থাকে। যদি কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়ে থাকে, দ্বিতীয়ত যদি কোনও ভোটারের দুই জায়গায় ভোটার কার্ড থাকে, তৃতীয়ত যদি কোনও ভোটার নিখোঁজ থাকেন এবং চতুর্থ হল যদি কোনও ভোটার পাকাপাকিভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে যান।
এদিকে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছিল, চলতি এসআইআর পর্বে রাজ্যের ২২০৮ বুথে কোনও মৃত ভোটার নেই বা কোনও ভোটার স্থানান্তরিত হননি। অর্থাৎ, এই বুথগুলি থেকে কোনও ফর্ম আনকালেক্টবল ছিল না। সব এনুমারেশন ফর্মই জমা পড়েছিল। তবে সেই ‘মৃত্যুহীন’ বুথের সংখ্যা কমে ‘সিঙ্গল ডিজিটে’ নেমেছে। এর আগে যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল, এর মধ্যে মৃত্যুহীন বুথ সবচেয়ে বেশি ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। সেই সেই জেলার ৭৬০টি বুথে নাকি কোনও মৃত ভোটার ছিল না। এরপর জেলা শাসকদের কাছ থেকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট চায় কমিশন। আর নতুন তালিকা অনুযায়ী, মৃত্যুহীন বুথের সংখ্যা কমেছে হু হু করে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই মৃত্যুহীন বুথের সংখ্যা মাত্র ২-এ নেমে এসেছে।
