উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের একটি বুথের তিনশতাধিক বাসিন্দাদের নাম বাদ পড়ল এসআইআর তালিকা থেকে। চূড়ান্ত তালিকায় সংশ্লিষ্ট বুথের ৩৪০ জন ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল। তবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় দেখা গেল, এই ৩৪০ জনেরই নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকী সেই বুথের বিএলও-র নাম পর্যন্ত মুছে ফেলা হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের বড় গোবরা এলাকার ৫ নম্বর বুথে এই ঘটনাটি ঘটেছে। সেই বুথে মোট ৯৫২ জন ভোটার বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের বড় গোবরা এলাকার ৫ নম্বর বুথে ২০২ জন পুরুষ এবং ১৩৮ জন মহিলার নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে অনেক ভোটারের বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতে ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এদিকে নাম বাদ পড়েছে সেই বুথের বিএলও শফিউল আলমেরও। এরই সঙ্গে শফিউলের দুই ভাই রবিউল আলম ও তরিকুল আলমের নামও বাদ পড়েছে। যদিও শফিউল দাবি করেছেন, ২০০২ সালে শফিউলের বাবার নাম ভোটার তালিকায় ছিল। এমনকী এবারও শফিউলের বাবা হাবিবর রহমানের নাম আছে ভোটার তালিকায়।
এদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বসিরহাট ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৌমেন মণ্ডল বলেন, ‘বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা আছে। কিন্তু, বিজেপির চক্রান্ত ও নির্বাচন কমিশনের প্ররোচনায় মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, স্বাধীনতার আগে থেকে তাঁরা এখানে থাকেন। এটা দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছু নয়।’ এদিকে এই ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত আবার বলেন, ‘যাঁরা বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখেছেন, তাঁরাই এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে প্রকাশিত হয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। বাংলায় এসআইআরের ‘চূড়ান্ত তালিকায়’ ৬৩ লাখ লোকের নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম ছিল বিচারাধীন। এই আবহে বিচারাধীন ভোটারদের যোগ্যতা বিচার করতে বিচারপতিদের নিয়োগ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সেই মতো এখনও পর্যন্ত ২৯ লক্ষ বিচারাধীন নাম নিয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এরপর আরও প্রায় ৩১ লাখ ভোটারের নাম নিষ্পত্তি করার কাজ বাকি থাকবে।