West Bengal Cabinet Portfolios: শনিবারই ব্রিগেডের মেগা-মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেদিনই তাঁর সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। যদিও সেদিন কোনও মন্ত্রীরই দফতর বন্টন করা হয়নি। তবে সোমবার পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকারের মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকের পর এই পাঁচ মন্ত্রীর দফতর বন্টন করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোন দফতরের দায়িত্ব পেলেন কোন মন্ত্রী, তা জেনে নিন।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে। দিলীপ ঘোষ রয়েছেন পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন, প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের দায়িত্বে। খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অশোক কীর্তনিয়াকে। নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর, পুর বিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে অগ্নিমিত্রা পলকে। ক্ষুদিরাম টুডুকে দেওয়া হয়েছে আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব।
রাজ্য সরকারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, স্বরাষ্ট্র, পুলিশ, অর্থ, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং তথ্য ও সম্প্রচার ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলি আপাতত নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি সপ্তাহে প্রোটেম স্পিকার নির্বাচন এবং বিধায়কদের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর মন্ত্রীসভার আরও সম্প্রসারণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্য। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও ছিলেন ওই বৈঠকে। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর মন্ত্রিসভা চলবে সুশাসন এবং সুরক্ষার পথে। একই সঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ যে পথে এগোচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই পথেই এগোবে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে রাজ্যে এক বা একাধিক উপমুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে যে জল্পনা তুঙ্গে ছিল, তাতে আপাতত ইতি পড়ল। প্রথম দফার দফতর বণ্টনে কাউকেই উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়নি। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, দিলীপ ঘোষ বা অগ্নিমিত্রা পলের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীদের উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। কিন্তু বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই পথে হাঁটেননি। এর পেছনে মূলত প্রশাসনিক সংহতি বজায় রাখা এবং ক্ষমতার একাধিক কেন্দ্র তৈরি হওয়া রুখতে চাওয়ার রণকৌশল কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া জোট শরিক না থাকায় উপমুখ্যমন্ত্রী পদ তৈরির কোনও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাও নেই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে।