কী করে গড়া যাবে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ? এই প্রশ্নই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তসলিমা নাসরিনকে। দীর্ঘদিন ঘরছাড়া, তবুও বাংলাদেশের জন্য মন কাঁদে ভূমিকন্যার। কিন্তু এই বাংলাদেশকে দেখবেন বলে তো এতদিন তিনি নির্বাসনে থাকেননি লেখিকা! দিনদিন যেন আরও অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে তাঁর দেশ, সাম্প্রদায়িকতা নাগপাশের মতো ঘিরে রয়েছে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে।
হালে আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশি অভিনেতা যশ রোহন। বিজয়া দশমীতে মা দুর্গার সামনে দাঁড়ানো নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন ওপার বাংলার নাটকের এই জনপ্রিয় মুখ। সাদা কালো ছবিতে যশের কপালে কাটা তিলক। মা দুর্গার সামনে নতমস্তক অভিনেতা। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘শুভ বিজয়া’।
এরপরই যশ রোহানকে আক্রমণ শুরু হয়ে যায়। কেউ লেখেন, ‘মুসলিম ভেবে এতদিন তোমাকে ফলো করতাম, তোমার নাটক দেখতাম। আনফলো করলাম, আর নাটক দেখব না’। কেউ কেউ তো অভিনেতাকে রীতিমতো গালিগালাজ করেন। একজন লেখেন, ‘তুই হ্লা হিন্দু? আজকে জানলাম’।
ট্রোলারদের কোনও কমেন্টই চোখ এড়ায়নি যশের। তিনি জবাব দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ‘জি ভাইয়া, আমি হিন্দু’। নিজের ধর্ম পরিচয় গোপন রাখা তাঁর উদ্দেশ্য নয়, স্পষ্টই জানিয়েছেন যশ। কটাক্ষের পাশাপাশি অনেকেই যশের হয়েও সুর চড়িয়েছেন। কেউ বলেছেন, শিল্পীর কোনও ধর্ম হয় না। কেউ আবার দুঃখপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের একশ্রেণির মানুষের নীচ মানসিকতা নিয়ে।
এই ঘটনায় যশের পাশে দাঁড়িয়েছেন তসলিমা নাসরিন। ফেসবুক পোস্টে বিস্ময় এবং হতাশা ঝরে পড়ল তসলিমার কলম থেকে। তিনি লেখেন, ‘চঞ্চল চৌধুরীকে তারা ভালবেসেছিল। কারণ চঞ্চলের অভিনয় তাদের ভাল লেগেছিল। চঞ্চলের গানও ভাল লেগেছিল তাদের। তারপর যখন ফেসবুকে চঞ্চলের ছবি দেখলো তাঁর মায়ের সঙ্গে, যে মায়ের সিঁথিতে ছিল সিঁদুর, তখনই চঞ্চলের প্রতি যত ভালবাসা ছিল উইথড্র করে নিল।

তারা বিশ্বাসই করতে পারলো না চঞ্চল হিন্দু। তারা তুই-তোকারি করতে লাগলো চঞ্চলকে, গালি দিতে লাগলো, ঘৃণা ছুঁড়তে লাগলো।
এরপর যশ রোহান যখন ছবি পোস্ট করলো দুর্গা প্রতিমার সঙ্গে, কপালে তিলক বা সিঁদুর। তারা অবাক। তারা তো যশকে ভালবাসতো। যশের অভিনয় ভাল লাগতো তাদের! এখন কী হবে?কী করে এখন ভালবাসবে যশকে, যশ তো হিন্দু! যশের জন্য যত ভালবাসা ছিল, মুহুর্তে উইথড্র করে নিল। তারা বিশ্বাসই করতে পারলো না যশ হিন্দু। তারা তুই-তোকারি করতে লাগলো যশকে, গালি দিতে লাগলো, ঘৃণা ছুঁড়তে লাগলো।
এই হলো বাংলাদেশের একটা বড় সংখ্যক মুসলমানের চরিত্র। এই চরিত্রগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কী করে গড়া যাবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ! কারও কোনও আইডিয়া থাকলে জানান।’
টেলিভিশনের পাশাপাশি রুপোলি পর্দাতেও কাজ করেছেন যশ রোহন। হইচই-এর সিরিজ একেন বাবুর সুবাদে এবার বাংলার দর্শকের কাছেও পরিচিত মুখ তিনি।