পরিকল্পিতভাবেই বাংলাদেশে হিংসা চালানো হয়েছে। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য তথা অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পরে বাংলাদেশে যেভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তার প্রতিবাদে ঢাকায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এবং বাম সংগঠনের যৌথ সমাবেশে আনু দাবি করেন, যেভাবে পুলিশ বা সেনাবাহিনী চোখে ঠুলি পরেছিল এবং হিংসা চলতে দিয়েছিল, তাতে মনে হয়েছে যে দাঙ্গাবাজদের মাথার উপরে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাত ছিল। যেভাবে হিংসা বা তাণ্ডব চালানো হয়েছে, সেইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেভাবে বাংলাদেশে সন্ত্রাস এবং নৃশংসতা চলে আসছে, সেটাই ইউনুসের সভ্যতার নমুনা কি?
ইউনুসের বর্বর জগত থেকে সভ্যতার জগতের মন্তব্যের পালটা
আর গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু যে মন্তব্য করেছেন, তা ইউনুসের কথার রেশ ধরেই। মাসদুয়েক আগে যখন বাংলাদেশে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান হয়েছিল, তখন ইউনুস দাবি করেছিলেন যে বাংলাদেশিরা একটি বর্বর দুনিয়ায় ছিলেন না। যে জগতে আইন-কানুনের কোনও বালাই ছিল না। যে মানুষের যা ইচ্ছা হত, তিনি সেটাই করতেন। কিন্তু এখন বাংলাদেশ সভ্যতার আলোয় আলোকিত হচ্ছে বলে দাবি করেন ইউনুস। তাঁর সেই মন্তব্যের পালটা দিলেন আনু।
হিংসায় ডুবে বাংলাদেশ, ভারত বিরোধী সুর
উল্লেখ্য, কট্টর ভারত-বিরোধী হাদির মৃত্যুর পরে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশে। আগুনে পুড়িয়ে খুন করা হয় হিন্দু যুবককে। তাণ্ডব চালানো হয় বিভিন্ন প্রান্তে। বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় আগুন। ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ের মতো বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী বলছে?
সেইসবের মধ্যেই ভারত বিরোধিতার সুরে চড়াতে থাকেন বাংলাদেশের কট্টরপন্থীরা। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছুটা সুর চড়ানোর চেষ্টা করলেও ধীরে-ধীরে বাস্তবের জমিতে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা খারাপের দিকে যাবে না। চেষ্টা চলছে।’ এরপর গোপন আলোচনার আভাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন পর জানতে পারবেন। ভারতের ব্যাপারে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা জানেন। এখন বিস্তারিত বলা যাবে না।’