‘বিচারাধীন’ ছিল তাঁর নাম। তবে এসআইআরের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় এল রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার নাম। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হওয়ার আগে পর্যন্ত শশী পাঁজার মনোনয়ন ঘিরে জটিলতা তৈরির সংশয় দেখা দিয়েছিল। তবে ২৭ মার্চ রাতে প্রকাশিত তালিকায় তাঁর নাম থাকায় আর কোনও সমস্যা রইল না তাঁর। আসন্ন নির্বাচনে শশীকে ফের শ্যামপুকুর থেকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এর আগে এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছিল মন্ত্রী শশী পাঁজাকে। সেখানে তিনি নথি জমা করে এসেছিলেন।
এদিকে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম রয়েছে বীরভূমের হাঁসানের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখেরও। এর আগে কাজলের মায়ের নামও বিচারাধীন ছিল। এই দফায় তৃণমূল নেতার মায়ের নামও উঠেছে তালিকায়। তালিকায় নাম ওঠার পরে তিনি বলেছেন, ‘বিজেপি চেয়েছিল বাংলার মানুষ যাতে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়ে আদালতে লড়াই করেছেন।’
উল্লেখ্য, রাজ্যের ছ’টি রাজনৈতিক দলের ১৪ জন প্রার্থীর নাম অ্যাজুডিকেশন বা বিচারাধীন তালিকায় ছিল। এই আবহে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের আবেদন, রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীদের মামলাগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। এবং যদি দেখা যায়, কারও নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে, তাহলে ট্রাব্যুনালের আপিলের শুনানিও যাতে দ্রুত হয়।

প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্বে গোটা রাজ্যে বাদ পড়ে প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। এই সব ভোটারের নামে এনুমারেশন ফর্মই জমা পড়েনি। তাই খসড়া তালিকা থেকেই বাদ পড়েছিল তাদের নাম। এর মধ্য়ে মৃত ভোটার ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২, নিখোঁজ ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮ জন, স্থানান্তরিত রয়েছেন ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন, ভুয়ো ভোটার ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩২৮ জন এবং অন্যান্য ৫৭ হাজার জন। তারপর ‘চূড়ান্ত তালিকায়’ আরও প্রায় ৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। এবং রিপোর্টে দাবি করা হয়, প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে প্রায় ১০ লাখ ভোটারের নাম বাদ গিয়ে থাকতে পারে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৭০ লাখেরও বেশি নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে।