নেপাল এয়ারলাইন্সের সাম্প্রতিক একটি ‘নেটওয়ার্ক ম্যাপ’ ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। সেই মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, নেপাল এয়ারলাইন্স রাষ্ট্রায়ত্ত একটি সংস্থা। এই আবহে বিতর্কিত মানচিত্রের নেপথ্যে কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য বা রাজনৈতিক বার্তা আছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুর হয়। তবে বিতর্ক বাড়তেই নিজেদের ভুলের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে ক্ষমা চেয়ে নেয় নেপাল এয়ারলাইন্স। এদিকে বিতর্কিত সেই মানচিত্রটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলে নেপাল এয়ারলাইন্স।
ক্ষমা চেয়ে নেপাল এয়ারলাইন্সের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সম্প্রতি একটি নেটওয়ার্ক ম্যাপ শেয়ার করা হয়েছিল এবং তাতে ত্রুটি থাকার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সেই ম্যাপটিতে আন্তর্জাতিক সীমানা সংক্রান্ত এমন ভুল ছিল, যা নেপাল বা নেপাল এয়ারলাইন্সের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। আমরা অবিলম্বে পোস্টটি সরিয়ে ফেলেছি। এরপর থেকে আমাদের তথ্যাবলীতে যাতে ভুল না থাকে এবং তাতে সর্বোচ্চ মান বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সাথে আমাদের দৃঢ় সম্পর্কের মূল্য আমাদের কাছে গভীর। এই পোস্টের কারণে যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য আমরা দুঃখিত।’
এর আগে ২০২৫ সালে দিওয়ালির সময় একটি নতুন ১০০ টাকার নোট প্রকাশ করেছিল নেপাল সরকার। যদিও সেটি ইস্যু করা হয়েছিল ২০২৪ সালে। তাতে ভারতের তিন এলাকাকে নেপালের অন্তর্গত দেখানো হয়েছিল। তবে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি, লিপুলেখের মতো সেই সব এলাকা নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে দীর্ঘদিনের। তা নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তবে এভাবে ভারতের অন্য একটি অংশকে দেশের থেকে পৃথক দেখানোর মতো ঘটনা নেপাল সাম্প্রতিককালে অন্তত ঘটায়নি। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নেপালকে তোপ দেগেছে। ভোজপুরি তারকা কেশরীলাল যাদব একটি পোস্টে লেখেন, ‘কেউ কি বলতে পারেন, নেপাল এয়ারলাইন্স কী কারণে ভারতের মানচিত্রের সাথে এভাবে কাটাছেঁড়া করল, তাও আবার জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাপারে? এটা কোনও তুচ্ছ বিষয় নয়, মনে হচ্ছে এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।’
