বুধবার পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের একজন শীর্ষ স্থানীয় কমান্ডারের রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, এই জঙ্গি নেতা একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয়েছে। তবে সেই ‘দুর্ঘটনা’ নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। যে গাড়িটি জইশ নেতাকে মেরে দিয়ে চলে যায়, সেটির কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। গাড়ির চালকের বিষয়েও কোনও কিছু জানা যায়নি। নিহত জঙ্গি নেতার নাম মৌলানা সলমন আজহার। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, মৌলানা সলমন আজহার জঙ্গি সংগঠনটির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। জইশের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত এই কমান্ডার। জানা যায়, ২৯ এপ্রিল পাকিস্তানি সময় বিকেল ৪টের সময় বাহাওয়ালপুরের মারকাজে সমলন আজহারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে অপারেশন সিঁদুরের সময় এই বাহাওয়ালপুরে হানা দিয়ে সেখানকার জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। তবে পরবর্তীতে পাকিস্তানি সরকারের সহায়তায় ফের সেখানে তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ঘাঁটি গড়ে তুলতে শুরু করে জইশ।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালে এভাবেই এক অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছিল জইশের শীর্ষ স্থানীয় কমান্ডার মৌলানা আবদুল আজিজ এসার। সেই ঘটনাটি ঘটেছিল পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে। এদিকে গত ২৬ এপ্রিল ‘অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারী’র হামলায় খতম হয় শেখ ইউসুফ আফ্রিদি নামে লস্কর-ই-তৈবার এক শীর্ষ স্থানীয় কমান্ডার। সে লস্কর প্রধান হাফিজ সইদের খুব ঘনিষ্ঠ বলেও জানা যায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে রাস্তাতেই হামলাকারীরা আফ্রিদির ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এর জেরে সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয় এই জঙ্গি নেতার। লস্করের খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রধান হিসাবে বিবেচনা করা হত এই আফ্রিদিকে। হফিজ সইদের সঙ্গে একাধিকবার প্রকাশ্যে হাজির হয়েছিল এই আফ্রিদি।
