নির্বাচন মোটের ওপর নির্বিঘ্নেই কেটে গেছে। বহু বছর পরে বাংলায় এমন কোনও ভোট হল যেখানে রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারাতে হয়নি কাউকে। তবে ভোট শেষ হতে না হতেই কলকাতার বেহালায় রক্ত ঝরল। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের হাতে মার খেতে হল তৃণমূলকে। ঘটনাটি ঘটেছে ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগর রামকৃষ্ণ পল্লিতে। ইট, বাঁশ দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, ‘এরা কখনও ক্ষমতায় এলে বাংলায় আমরা বাঁচতে পারব?’
জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় জখম হয়েছেন ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ও রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন দাস। বিজেপি কর্মীদের হামলায় নাকি তাঁর মাথা ফেটেছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন এই হামলায়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শেষে তাদের দলের কর্মীদের পার্টি অফিসে ঢুকে মারধর করা হয়েছিল।
এই হিংসা প্রসঙ্গে রত্না বলেন, ‘আজকে সারাদিন কোথাও কোনও গন্ডগোল হয়নি। শুধু ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট একটা ঘটনা ঘটেছিল। আমরা আমাদের ছেলেদের বলে দিয়েছিলাম, ওরা প্ররোচনা দেবে, তাতে যেন কেউ পা না দেয়। তবে ভোট শেষে বিজেপির ছেলেরা আমাদের একটা ছেলেকে মারছিল। অঞ্জনদা সেটা শুনে যান। অঞ্জনদা কিছু বলার আগেই মারধর শুরু করে। অঞ্জনদা-সহ পাঁচজনকে বেধড়ক মেরেছে। লাঠি, ইট দিয়ে মেরেছে। একজনের মাথায় একাধিক স্টিচ পড়েছে। হাত ভেঙে দিয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর। আমরা থানাকে জানিয়েছি। দু-একজনকে গ্রেফতার করেছে। সবাইকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত ছাড়ব না। এরা কখনও ক্ষমতায় এলে বাংলায় আমরা বাঁচতে পারব?’
