এক পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে ২টো সি-১৩০ সামরিক বিমান, একাধিক হেলিকপ্টার হারিয়েছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে জল্পনা তৈরি হয়েছে, আদৌ কি শুধুমাত্র পাইলট উদ্ধারের জন্য এই বিশাল অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা, নাকি ইরানের ইউরেনিয়াম চুরি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য? এই সব জল্পনার মাঝেই ফের একবার ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি ডোনান্ড ট্রাম্পের। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানকে রাতারাতি ধ্বংস করা হতে পারে। সোমবার হোয়াইট হাউজে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, গোটা ইরান রাতারাতি শেষ হয়ে যেতে পারে এবং সেই রাতটি আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবারও হতে পারে।
ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত ইরানকে সময় দিয়েছেন হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য। উল্লেখ্য, ট্রাম্প বিগত দিনে এমন একাধিক সময়সীমা ইরানকে বেঁধে দিয়েছেন। তবে ইরান তাতে তোয়াক্কা করেনি। এরই মাঝে ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে নয়া হুমকি দেন ইরানকে। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্লান্ট দিবস ও সেতু দিবস। ইরানের জ্বালানি ও অসামরিক পরিকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।’ এর আগে মার্চের শেষ দিকে হরমুজ নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইরানকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে তিনি সেই মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়িয়েছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হয় গত ৬ এপ্রিল।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনও চুক্তি না হয় তবে নরকের বৃষ্টি হবে।’ সেই পোস্টে ইরানকে তিনি পাগল আখ্যা দেন এবং কুরুচিকর ভাষার প্রয়োগ করেছিলেন। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় ঘরে বাইরে চাপের মুখে ট্রাম্প। যুদ্ধের আগে এই প্রণালী দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে জাহাজ চলাচল করছিল। তবে এখন আমেরিকা বা আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত কোনও দেশের জাহাজ এই হরমুজ দিয়ে যেতে দিচ্ছে না ইরান। এই আবহে ঘরোয়া রাজনীতিতে সমালোচিত ট্রাম্প। আবার আন্তর্জাতিক ভাবে ট্রাম্প হরমুজ উন্মুক্ত রাখতে জোট গড়ার কথা বললেও কোনও দেশ তাতে সাড়া দিচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং। ইরান যুদ্ধের আবহে সমুদ্রে যতজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁরা সকলেই ভারতীয় বলে জানা গিয়েছে। এই নিয়ে সম্প্রতি ভারত ক্ষোভ প্রকাশও করেছে।