সালটা ২০০৮। বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। এক লহমায় যেন বাংলা সিনেমা হয়ে উঠেছিল দর্শকদের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু। কেউ একবার তো কেউ পাঁচবার দেখেছিল ছবিটি। সিনেমা হলে বসে আবার কেউ কেউ হাপুস নয়নে কেঁদেছিল। এই সিনেমার গল্প মানুষকে ভাবিয়েছিল, ভালবাসতে শিখিয়েছিল।
সিনেমায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ, সুপ্রিয় দত্ত, তমাল রায়চৌধুরী, অভিনেত্রী গীতা দে এবং শিশু শিল্পী হিসাবে অভিনয় করেছিলেন অরিত্র দত্ত বনিক। এই সিনেমায় রাহুলের বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ, যে কিনা বন্ধুকে সাহায্য করেছিল বিয়ে করতে।
পর্দার সেই বন্ধুত্ব বাস্তবেও গড়ায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই রাহুলের মৃত্যুতে ভীষণ ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। রাহুলের মৃত্যু যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না রুদ্রনীল। অন্য সকলের মতো তাঁরও মনে হচ্ছে যেন যে খবরটা পাওয়া গিয়েছে সেটা যেন মিথ্যে হয়ে যাক।
কিন্তু নিয়তির কাছে সকলকে হার মেনে যেতে হয়। তাই সহকর্মী তথা ভাইয়ের এই অকাল প্রয়াণে শুধুই স্মৃতি রোমন্থন করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই রুদ্রনীলের। এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন, ‘একসঙ্গে স্ক্রিপ্ট লেখা থেকে শুরু করে অভিনয় শেখা সবকিছুই আমরা একসঙ্গে করতাম। চিরদিনই তুমি যে আমার সিনেমায় আমায় একসঙ্গে কাজ করেছিলাম কিন্তু ওকে আমি চিনতাম অনেক আগে থেকে।’
মৃত্যুর খবর প্রসঙ্গে রুদ্রনীল বলেন, ‘আমি এখন কলকাতার বাইরে। খবরটা শুনে যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে ঈশ্বর এত নিষ্ঠুর হতে পারেন না।’ তবে সব কিছুর শেষে শ্যুটিং ফ্লোরের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন অভিনেতা।
অভিনেতা বলেন, ‘ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব একটা ভালো থাকে না। তবে আমি এখনও জানি না ওর কোনও দৃশ্যের শুটিং ছিল নাকি ও নিজেই জলে নেমেছিল। তবে সুপারস্টারদের ক্ষেত্রে আলাদা নিরাপত্তা দেওয়া হলেও বাকিদের ক্ষেত্রে সেটা ততটা মজবুত থাকে না।’

প্রসঙ্গত, রবিবার অর্থাৎ ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় আচমকা খবর এল, ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকের শ্যুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তালসারিতে চলছিল শ্যুটিং, তার মাঝেই সমুদ্রে নেমেছিলেন রাহুল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তিনি জলে তলিয়ে যান। টেকনিশিয়ানরা তাঁকে উদ্ধার করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।