রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্য়ু নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন। রবিবার সন্ধ্যে থেকে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলছিল না। ভোলে বাবা পার করেগা শ্যুটিং ইউনিটের সদস্য়দের পরস্পর বিরোধী বয়ান তৈরি করেছিল ধোঁয়াশা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট তাঁদের বয়ানকে কার্যত মিথ্যায় পর্যবসিত করেছে।
রাহুল নাকি পাঁচ মিনিট জলে ছিলেন বলে দাবি ইউনিটের সদস্য়দের। অথচ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, জল ঢুকে অভিনেতার ফুটফুস দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। তাতে যে পরিমাণ নোনা জল ও বালি ছিল, তাতে কমপক্ষে এক ঘণ্টা জলের তলায় ছিলেন রাহুল। কোন সত্যি গোপনের চেষ্টা করছে শ্যুটিং ইউনিট? কাঠগড়ায় তোলা হয় প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসকে।
রবিতে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, গভীর জলে শ্যুট ছিল না। সোমবার সকাল থেকে ফোনে অধরা ছিলেন চিত্রনাট্যকার। গভীর রাতে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন। ততক্ষণে পঞ্চভূতে লীন হয়ে গিয়েছেন রাহুল। আম অর্পিতাকে মুঠোফোনে লীনা জানান, তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। তিনি স্পটে ছিলেন না। যেটুকু তিনি শুনেছেন, সেটাই জানাবেন। তিনি দায়িত্ব নিতে পারছেন না, বাকিরা কে কী বলছেন। কারণ তিনি নিজে রবিবার স্পটে ছিলেন না।
লীনার কথায়, ‘সবাই চলে গিয়েছিল। প্রোডাকশন ম্যানেজার আর্টিস্টদের ছাড়তে গিয়েছিল। ভাস্কর ব্যানার্জি, অম্বরীশ, রাজন্যা… তাদের থেকে জানতে পারবে। রাহুল খুব পারফেকশানিস্ট। ওহ খুব মন দিয়ে কাজ করত। ওর মনে হয়েছিল একটা ড্রোন শট নেব। সব হয়ে যাওয়ার পর ওহ ডিরেক্টরকে রিকুয়েস্ট করে। আমি যা শুনেছি তাই বলছি। প্রথমে আমি শুনেছি ওদের প্যাকআপ হয়ে গিয়েছিল। ওই রিকুয়েস্ট করে। ডিরেক্টর বলে, এটা নেই স্ক্রিপ্টে। তুমি এটা কেন করতে যাচ্ছো? ওই বলে নে না, নে না। একটা ড্রোন শট দেব’।

লীনা অনড় হাঁটু জলেই শ্যুট চলছিল। তবে তাঁর শোনায় অসঙ্গতি থাকতে পারবে। তিনি বলেন, ‘হাঁটু জলেই ওরা শ্যুট করছিল। এরপর ও শ্বেতাকেও নিয়ে যায়। এটা ওড়িশার পুলিশও বলেছে। এই শোনাতে অসঙ্গতি থাকতে পারে। প্রথমে শ্বেতা জলে পড়ে যায়। ওহ বলে আমি আর করব না, শ্বেতাকে ইউনিটের ছেলেমেয়েরা ওকে পৌঁছে দেয়। তারপর একটা ঢেউ আসে, সেই ঢেউতে রাহুলের পা স্লিপ করে যায় আমি শুনেছি। একবার পা স্লিপ করলে যা হয়, মাটি না পেলে যেটা হয় সেটা হয়েছে। আমাদের নৌকা ছিল সেখান থেকে লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে ওকে রেসকিউ করে। এটা পাঁচ মিনিটের মধ্যেই হয়েছে। পাড়ে ওঠবার পর ওর কিন্তু সেন্স ছিল। সেটা আমাকে শ্বেতা বলেছে। ওরাই তো ছিল। বাকি আরও যারা ছিল পরিচালক, প্রোডাকশন ম্যানেজার তারাও বলেছে। জল ঢুকে গিয়েছিল (রাহুলের শরীরে), জল বার করেছে। এরপর গাড়িতে তুলে দীঘা হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছিল। এরপর ওহ দু-বার রেসপন্ড করেছে। কথা বলতে পারেনি, কিন্তু ওহ তাকায়, রেসপন্ড করেছে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বলে ওহ আর নেই’।