সংখ্যাতত্ত্ব, জ্যোতিষ আর ‘আধ্যাত্মিক’ পরামর্শের আড়ালে গড়ে উঠেছিল কোটি টাকার সাম্রাজ্য। সেই সাম্রাজ্যের কর্ণধার ‘ক্যাপ্টেন’ অশোক খারাত এখন ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে, যার জেরে রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই আবহে অশোক খারাতকে কেন্দ্র করে আরও এক ভয়াবহ শ্লীলতাহানি কাণ্ডের রহস্য সামনে এসেছে।
৬৭ বছরের খারাত একসময় মার্চেন্ট নেভির অফিসার ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি ‘নিউমারোলজিস্ট’ বা সংখ্যাতত্ত্ববিদ হিসেবে নিজের নতুন পরিচয় তৈরি করেন। নাসিকের মিরগাঁওয়ে ‘শ্রী শিবনিকা সংস্থান ট্রাস্ট’ গড়ে তুলে তিনি একটি মন্দিরকেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। সেই মন্দিরই ধীরে ধীরে তাঁর কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে গত সপ্তাহে। এরপরেই ওই মহিলা অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামীর প্রাণ সংশয়ের ভুয়ো আশঙ্কা দেখিয়ে খারাত তাঁকে নিজের অফিসে ডাকতেন। সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে পানীয় খাইয়ে বারবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু একজন নন, আরও একাধিক মহিলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছে পুলিশ। এক মহিলা অভিযোগ করেছেন যে, গর্ভবতী হওয়ার পর তিনি নিরাপদ প্রসবের জন্য অশোক খারাতের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু জ্যোতিষী লাইট বন্ধ করে, চোখ বন্ধ করতে বলেছিলেন এবং গর্ভস্থ শিশুকে পরীক্ষা করার আড়ালে শ্লীলতাহানি করেছিলেন। মহিলা কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। সেই সময় তাঁর স্বামীকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলেছিল অশোক খারাত। এই ঘটনার কথা যাতে ওই মহিলা কেউকে না জানায়, তাঁকেও হুমকি দিয়েছিল খারাত।
বিশাল সাম্রাজ্য
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে খারাত বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠেন। জমি, ফার্মহাউস, আবাসনসব মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার কাছাকাছি বলে অনুমান করা হচ্ছে। ধনী ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য তিনি একেকবারে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ‘আধ্যাত্মিক সাম্রাজ্য’-এর আড়ালেই চলছিল গুরুতর অপরাধ-এমনই অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শোষণ শুধু শ্লীলতাহানি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না। নিয়ম বা আচার-অনুষ্ঠানের আড়ালে তেঁতুলের বীজকে পলিশ করে ‘শক্তিশালী রত্ন’ হিসেবে বিক্রি করা হতো, যা হাজার থেকে লক্ষ টাকায় বিক্রি হতো। আর এই ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠার পর থেকে খারাত প্রায় ১৫০ বার বিদেশ ভ্রমণে গিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক দক্ষিণ কোরিয়া ভ্রমণের ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে, এবং উদ্ধারকৃত ভিডিও ও প্রমাণ অনুযায়ী পুলিশ পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
