সোনা-রুপো-নগদ টাকা দান! যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পাশে কাশ্মীর

Spread the love

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল একে অপরকে হুঙ্কার দিয়ে চলেছে। এসবের মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরে দেখা গেল অদ্ভুত ছবি। ইরানের প্রতি সংহতি জানাতে বিশেষ করে বদগাম ও বারামুল্লা জেলা-সহ শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে স্থানীয় বাসিন্দারা সোনা, রুপো, নগদ টাকা, গবাদি পশু, তামার সামগ্রী, গৃহস্থালির জিনিসপত্র দান করে ইরানকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন।

এই কঠিন সময়ে আর্থিক সাহায্যের নিরিখে ইরানবাসীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তেহরান। নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের তরফে এক্স-হ্যান্ডলে পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ হৃদয়ে, আমরা কাশ্মীরের সহৃদয় মানুষদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই – ইরানের জনগণের পাশে মানবিক সহায়তা ও গভীর সংহতি নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য; এই সহমর্মিতা কখনও ভোলা যাবে না। ধন্যবাদ, ভারত।’ পাশাপাশি ইরানি দূতাবাসের শেয়ার করা ছবিতে দেখা গিয়েছে, উপত্যকা জুড়ে সংগ্রহ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, গয়না এবং অন্যান্য সামগ্রী। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মহিলারা লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত সোনার গয়না জমা দিচ্ছেন। একজন আইনজীবী তার পরিবার থেকে ৩১ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছেন।

এই প্রেক্ষিতে একটি ঘটনা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে সকলকে। কাশ্মীরের এক বিধবা মহিলা তাঁর প্রয়াত স্বামীর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে প্রায় ২৮ বছর ধরে যত্ন করে রাখা সোনা দান করেছেন। এই আবেগঘন ঘটনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। দূতাবাসের বক্তব্য, মানুষের এই আন্তরিকতা ও সহমর্মিতাই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি। জানা গিয়েছে, শিশুরাও তাদের সঞ্চয়ের টাকা ও ইদের উপহার দান করেছে। বদগামের বিধায়ক মুনতাজির মেহদি এক মাসের বেতন ত্রাণে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শ্রীনগরের রৈনাওয়ারির বাসিন্দা আইজাজ আহমেদ বলেন, ‘এই অবৈধ যুদ্ধ ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। সভ্য বিশ্বের ন্যূনতম কর্তব্য হল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরাও তাই করেছি।’

উল্লেখ্য, ইরানের দূতাবাস সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত শেয়ার করার পর থেকেই ত্রাণ সংগ্রহ শুরু হয়। সংগৃহীত অর্থ ও সামগ্রী সরকারি ত্রাণ সংস্থা এবং দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এই সহমর্মিতার মধ্যে আবারও প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের বৃহৎ শিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইরানের গভীর যোগসূত্র রয়েছে, যা এই ধরনের মানবিক উদ্যোগে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *