অসম রাইফেলসের ঘাঁটিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেনার পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডারের

Spread the love

উত্তরপূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়ে চলেছে বাংলাদেশের নেতারা। আর এরই মাঝে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করল ভারতীয় সেনা। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিএসএফ, অসম রাইফেলস কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলী কান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রামচন্দ্র তিওয়ারি। সেই বৈঠকে স্পেশাল ফোর্সের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় অসম রাইফেলসের অপারেটিং ঘাঁটিতে। সেই ঘাঁটি বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া।

জানা গিয়েছে, বৈঠকে সীমান্তের ওপর নজরদারির ওপর জোর দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে ৪ হাজার ৯৬.৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে ভারতের। এর মধ্যে থেকে ৩ হাজার ২৩৯.৯২ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার আছে। অর্থাৎ, মোট সীমান্তের ৭৯.০৮ শতাংশ এলাকায় আছে কাঁটাতার বেড়া।

ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জায়গায় বিএসএফকে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বাধা দিয়েছে বিজিবি। এই নিয়ে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে একাধিক জায়গায় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের পর থেকে। এর জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে এর আগেও কথা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে জায়গায় জায়গায়। এছাড়া ‘সীমান্ত হত্যা’ নিয়ে বাংলাদেশের অনেক অভিযোগ। যদিও পাচারকারীকে রুখতে ব্যর্থ বিজিবি। এই আবহে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা পাচারকারীর ওপর বিএসএফ গুলি চালালে তাতেও আপত্তি বাংলাদেশের। এদিকে অনেক জায়গাতেই অভিযোগ উঠেছে, টাকা নিয়ে পাচারকারীদের ভারতে অনুপ্রবেশে সাহায্য করে বিজিবি। এই সবের মাঝেই সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা কর্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা ভারত ভাগের ডাক দিয়ে আসছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত বিরোধী সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। এদিকে বাংলাদেশ সেনার প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর আবার ভারত থেকে সেভেন সিস্টার্স এবং পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করার কথা বলেছেন। এদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জনসভা, মিছিলে ভারত বিরোধী স্লোগান উঠছে। এর আগে ভারত বিরোধী জঙ্গিদের বৈঠকও হয়েছে ঢাকায়। বাংলাদেশে তৎপরতা বেড়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের।

এদিকে চিকেন নেকের কাছে বাংলাদেশে বিমানঘাঁটি তৈরি হতে পারে বলে জল্পনা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এই সবের মাঝে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জ- এই তিনটি জায়গায় নতুন ব্যাটেলিয়ান অফিস বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এক একটি ঘাঁটিতে ৮০০ থেকে ৯০০ জন জওয়ান থাকবেন। উল্লেখ্য, চিকেন নেক করিডর থেকে ধুবড়ির দূরত্ব ২২২ – ২৪০ কিলোমিটার, চোপড়ার দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার, কিষাণগঞ্জের দূরত্ব ১৫২-১৮০ কিলোমিটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *