বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা হচ্ছে দফায় দফায়। আর রাজ্যজুড়ে ভোটের আবহেই খাস কলকাতায় বিপুল নগদ উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুক্রবার সাতসকালে নিউটাউনের সিটি সেন্টার ২ সংলগ্ন এলাকায় একটি অ্যাপ ক্যাব থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অ্যাপ ক্যাবে নগদ উদ্ধার
পুলিশ জানিয়েছে, বাংলায় ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর রুটিন নজরদারি চালাচ্ছিল ফ্লাইং স্কোয়াড টিম (এফএসটি)। নিউটাউনের সিটি সেন্টার ২ এলাকায় এদিন সকালে একটি গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক ঠেকে এফএসটি-র। তড়িঘড়ি গাড়িটি থামানো হয়। এরপরই গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়ির ডিকি খুলতেই একটি ব্যাগ নজরে আসে। ব্যাগ খুলতেই চমকে ওঠেন অফিসাররা। ব্যাগের মধ্যে থরে থরে সাজানো টাকার বান্ডিল। সব মিলিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা রয়েছে ব্যাগে। এই টাকা কোথা থেকে এল, তা নিয়ে কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি ওই গাড়ির আরোহী সুরেশ ঠাকুর। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়েও বিশেষ কিছু বলতে পারেননি। এরপর পুলিশ ২৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করে। সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় সুরেশকে।
ধৃত সুরেশ ঠাকুর কে?
পুলিশ জানিয়েছে, সুরেশ ঠাকুর রাজস্থানের বাসিন্দা। শিয়ালদহ থেকে অ্যাপ ক্যাব বুক করেছিলেন তিনি। স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে গাড়িতে ওঠেন। ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে যথাযথ তথ্য দিতে পারেননি তিনি। তাই গ্রেফতার করা হয় রাজস্থানের ওই বাসিন্দাকে। তবে তাঁর স্ত্রী, সন্তানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ধৃত ব্যক্তি এর আগেও টাকা লেনদেনে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত ১৫ মার্চ বাংলায় ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। ভোটের সময় কালো টাকার লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। সেজন্য নজরদারি বাড়ায় পুলিশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও জানিয়েছেন, বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ২৫ লক্ষ টাকা কীসের জন্য কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলেন ধৃত ব্যক্তি, সেটাই খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ।

উল্লেখযোগ্য, ক’দিন আগেই আলিপুরদুয়ার জেলায় নাকাতল্লাশির সময়ে বিপুল নগদ টাকা উদ্ধার হয়। অসমের নম্বর প্লেট লাগানো একটি গাড়ি থেকে সন্দেহ হয়েছিল পুলিশের। গাড়ি দাঁড় করিয়ে চলে তল্লাশি। গাড়ি থেকে ১০০ ও ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল উদ্ধার করে পুলিশ। মোট ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। টাকার উৎস সম্পর্কে যদিও সঠিক প্রমাণপত্র পাওয়ার যায়নি। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে লাগু হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। নিয়ম অনুযায়ী, ৫০ হাজার টাকার অধিক নগদ অথবা ১০ হাজার টাকার অধিক মূল্যের সামগ্রী নিয়ে যাতায়াত করলে এগুলি সম্পর্কে সঠিক নথি বা প্রমাণ দেখানোর নির্দেশিকা রয়েছে।